রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উত্তরণ ফাউন্ডেশন। চিকিৎসা দিয়ে তাকে গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওয়াকিল টাওয়ারের সামনে প্রতিবন্ধী শাহনাজ আক্তারকে (৩০) একটি প্রাইভেটকার চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ছটফট করতে থাকলেও কোনো পথচারী এগিয়ে আসেনি তাকে উদ্ধারে।
এ সময় উত্তরণ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। রক্তাক্ত শাহনাজকে দেখে তিনি এগিয়ে যান। তাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে টহল পুলিশও এগিয়ে আসে। শাহনাজের পুরো শরীর ময়লা-আবর্জনায় দুর্গন্ধ থাকায় কেউ ধারে-কাছে আসতে চায়নি।
পরে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিনে দেওয়া হয় নতুন কাপড়।
উত্তরণ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী এম এম মাহবুব হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনার পর কেউ এগিয়ে আসেনি। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এগিয়ে আসি। শাহনাজের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়ার কাপাশপাড়ায়।
তিনি আরো বলেন, নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম মন্জুরুল হক আকন্দকে বিষয়টি জানানো হলে তার পরিবারকে খুঁজে বের করে পুলিশ। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টায় আমরা তার পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলি।
উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শায়ককে বিষয়টি জানানো হলে তাদের পরামর্শে শাহনাজের পরিবারকে ঢাকায় আনা হয়। তাকে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শাহনাজের পিতা আয়নাল হোসেন জানিয়েছেন, শাহনাজ বিবাহিত। ৯ বছর বয়সী এক ছেলে আছে। তার স্বামী দেশের বাইরে থাকেন। ছেলের জন্মের পর থেকে মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তার। ডাক্তার-কবিরাজ দেখানোর পরও তাকে সুস্থ করা যায়নি। অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে চলে যায়। গত ৯ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে শাহনাজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। ১২ জানুয়ারি পালং মডেল থানায় জিডি করা হয়।