জুমার নামাজের সময় গান বাজানোর জের ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে পগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলে মাঠে ঘটনাটি ঘটে।
এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সদরঘাটের রাস্তায় অবরোধ করে। পরে বিষয়টি মিটমাট হওয়ায় অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পগোজ ল্যাবরোটারি স্কুলে মাঠে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল। এ সময় গানও বাজছিল। তবে জুমার নামাজের সময় তাদের গান না বাজাতে অনুরোধ করা হয়।
কিছু সময় গান বন্ধ থাকলেও নামাজ শেষ হওয়ার আগে আবার তা শুরু হয়। এ সময় নামাজ শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী সেখানে গিয়ে আয়োজকদের বলেন, ‘আপনাদের নামাজের সময় গান বাজানো বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলেও আপনারা নামাজ শেষ হওয়ার আগে গান বাজালেন?’
তখন ওই অনুষ্ঠানের এক আয়োজক বলেন, ‘এটা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বন্ধ রাখব কেন?’ প্রত্যুত্তরে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, ‘তাই বলে আপনারা আরেকজনের ধর্মপালনে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারেন না’।
কিছুক্ষণ তর্কের পর দুই পক্ষে বিষয়টি মিটমাট করে চলে আসার সময় ওই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগ কর্মী তরিকুল রিমন, লিখন সাঈদ, রায়হানসহ আরো অনেকের ওপর হঠাৎ লাঠিচার্জ করে এবং বন্দুক দিয়ে আঘাত করে।
এর প্রতিবাদে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা অবরোধ করে। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল, সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল ও কোতোয়ালি থানার ওসি এনামুল হক এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এনামুল হক বলেছেন, দোষী পুলিশদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবেন এমন আশ্বাস দিলে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নেয়।
তবে ছাত্রলীগের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই তাদের সরিয়ে নেয়া হয়।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, নামাজের সময় গান বাজানো নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তার সমাধান হয়েছে।
সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, যা একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তা নিয়ে আর সমস্যা নেই।
কোতোয়ালী থানার ওসি এনামুল হক বলেন, নামাজের সময় গান বাজানো নিয়ে যা একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তা নিয়ে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। আমরা সবকিছুর সমাধান করে দিয়েছি।