ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোকে 'প্রতিক্রিয়াশীল' ও 'পশ্চাৎপদ' বলে আখ্যায়িত করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের (ইশা) ।
শুক্রবার এ বিষয়ে এক বিবৃতি দেয় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংগঠন ইশা ছাত্র আন্দোলন।
উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বুধবার ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইশা ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে উপাচার্য ও প্রক্টরের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করলেও ইশা ছাত্র আন্দোলনকে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে সমাবেশে তারা অভিযোগ তোলে।
এদিকে, ইশা ছাত্র আন্দোলনের এই বিক্ষোভ সমাবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় বাম ছাত্রসংগঠনগুলো। ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক সংগঠনের প্রকাশ্য মিছিলের ঘটনা তাদের 'হতবাক' করেছে বলে বিবৃতি জানান বাম ছাত্র নেতারা। বিবৃতি দেওয়া সংগঠনের মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী বাসদ সমর্থিত), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও ছাত্র ঐক্য ফোরাম।
বাম সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া ইশা ছাত্র আন্দোলনের বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে আদর্শবাদী রাজনীতি চর্চায় যারা হতবাক হয়, তারাই মূলত প্রতিক্রিয়াশীল ও পশ্চাৎপদ। ইসলাম একটি আদর্শিক জীবন ব্যবস্থা, যা থেকে রাজনীতিকে বিচ্ছিন্ন করে ভাবার কোনও সুযোগ নেই। ইসলাম তার আদর্শিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য দিয়ে দেড় হাজার বছর বিশ্বজুড়ে শাসন করেছে।
বামজোটের উদ্দেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ ক্যাম্পাসে বিভেদ বিভক্তি নয় বরং সবার অংশগ্রহণমূলক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইশা ছাত্র আন্দোলন ডাকসু নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। গণমুখী ও সর্বজনীন সংগঠন হিসেবে প্যানেলে নারী ও সংখ্যালঘুদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামি রাজনীতিকে বিরুদ্ধবাদীরা যেভাবে চিত্রায়িত করে, তা সত্যের অপলাপ। মূলত ইসলামি রাজনীতি সাম্য, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব, পরমত সহিষ্ণুতা, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেয়, যা হাজার বছরের ইতিহাসে প্রমাণিত।