গুজরাটে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র পাশের সরদার সরোবর জলাধার থেকে প্রায় ৩০০ কুমির সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ওই জলাধার দিয়ে পর্যটকদের যাতায়াতের পথ সৃষ্টির জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে গুজরাটের বন অধিদপ্তর।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় ৯ ফুট লম্বা কুমিরগুলোকে লোহার খাঁচায় করে গুজরাটের পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও নেয়া হচ্ছে।
সরকারের এমন পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন সংরক্ষণবাদীরা।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ভাস্কর্যটি তৈরি করে গুজরাট প্রশাসন। এর উচ্চতা ১৮২ মিটার বা ৬০০ ফুট। নিউইয়র্কের ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’র চেয়ে এটি দ্বিগুণ লম্বা। গত অক্টোবরে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে চীনের ১২৮ মিটার উচ্চতার বৌদ্ধমূর্তিটি ছিল সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য।
হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ সরদার বল্লভভাই নরেন্দ্র মোদির পছন্দের ব্যক্তিত্ব। তার ইচ্ছায়ই মূলত এই ভাস্কর্যটি তৈরি হয়। নাম দেয়া হয়েছে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ বা ‘ঐক্যের ভাস্কর্য’।
উদ্বোধনের পর থেকেই ভাস্কর্যটি ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের প্রধান শহর আহমেদাবাদ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত।
সেখানে যেতে কোনো ট্রেন সার্ভিসের ব্যবস্থা নেই। যেতে হয় বাসে করে।
স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা অনুরাধা সাহু এএফপিকে বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সরকার থেকে কুমির সরানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২টির মতো কুমির সরানো হয়েছে।’
কমিউনিটি সায়েন্স সেন্টারের পরিচালক জিতেন্দ্র গাভালী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার কুমিরগুলোর স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের জীবন এখন হুমকির মুখে পড়বে।’