স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে মিন্দানাওবাসীর রায়

মুসলিম অধ্যুষিত মিন্দানাও অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে গণভোটে ৮৫ শতাংশ মিন্দানাওবাসী রায় দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। গত সোমবারের গণভোটে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৭ লাখ ভোটার অংশগ্রহণ করেন।

গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল ঘোষণা করে। ভোটারদের রায় স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে হওয়ায় আগামী তিন বছরের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। স্বায়ত্তশাসন চালু হলে ওই অঞ্চলটির নাম হবে ‘বাংসামোরো’।

বাংসামোরো স্থানান্তর কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, ‘স্বায়ত্তশাসন আইনের অনুমোদনের ফলে নতুন সরকার গড়ে তোলা ও শান্তির পক্ষে অগ্রযাত্রার প্রথম পদক্ষেপ।’ মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট ও সরকারের দীর্ঘদিনের আলোচনার পর ২০১৪ সালে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে সমঝোতা হয়। গত বছর ফিলিপাইনের কংগ্রেস এই বিষয়ে অনুমোদন দেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০২২ সাল নাগাদ ‘বাংসামোরো’তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। এর মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলে নিজস্ব পার্লামেন্ট এবং নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বেশ কিছু ক্ষমতা স্থানীয় সরকারের কাছে যাবে। ওই অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জন্য তহবিলের জোগান বাড়াবে এবং সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয় সরকারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

মিন্দানাও অঞ্চলে স্বাধীনতার দাবিতে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ‘মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এমআইএলএফ) ফিলিপাইনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এই স্বায়ত্তশাসনের ফলে এমআইএলএফ এখন থেকে আর নিষিদ্ধ সংগঠন থাকবে না।

এমআইএলএফ বলেছে, সরকার ‘বাংসামোরো’ নামের নতুন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করলে তারা স্বাধীনতার দাবি প্রত্যাহার করে নেবে। মিন্দানাও অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে নতুন এই অঞ্চলটি গঠিত হবে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসলামপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও অন্য বিদ্রোহীদের সংঘাতের কারণে মিন্দানাও ফিলিপাইনের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সেখানে ২০১৭ সাল থেকে সামরিক শাসন জারি আছে।