উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক কোচ জার্মানির অটো ফিস্টার তার সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘হি ওয়াজ মিসটেকেইনলি বর্ন ইন বাংলাদেশ’। দেশের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন। ফুটবলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রথম শিরোপাও এসেছিল তার নেতৃত্বেই। তিনি হলেন কিংবদন্তি মোনেম মুন্না। ‘কিংব্যাক’ উপাধি ছিল তার নামের পাশে।

১৯৮০-৮১ সালে পাইওনিয়ার ডিভিশনে গুলশান ক্লাবে নাম লিখিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে আবির্ভাব হয় মুন্নার। ১৯৮৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যোগ দিয়ে দুই বছর, এরপর এক বছর খেলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নে। ১৯৮৭-তে যোগ দেন আবাহনী শিবিরে। তার ক্যারিয়ারের বাকিটা সময় এই আকাশি-নীল জার্সিতেই কাটান। ১৯৯১ মৌসুমের দলবদলে ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে আবাহনীতে খেলেছিলেন, যা অনেক দিন পর্যন্ত এক অভাবনীয় রেকর্ড হয়েছিল গোটা উপমহাদেশে। মাঝে কলকাতার ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলেও খেলেছিলেন মুন্না। এই তো গেল ক্লাব ক্যারিয়ারের কথা। জাতীয় দলের জার্সি তিনি গায়ে জড়িয়েছিলেন ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে। দেশের হয়ে একাধিকবার অধিনায়কত্ব করেন মুন্না। তার নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চারজাতি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশের ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে জাতীয় দল এবং ’৯৮-এ পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন। ২০০৫ সালে কিডনিজনিত সমস্যায় মারা যান মুন্না। তার স্মৃতিতে ২০০৮ সালে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সেতুটির নাম রাখা হয় ‘মোনেম মুন্না সেতু।’