মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের কারণে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হবে দর্শনার্থীদের। গতকাল রবিবার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, একাডেমি চত্বর এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে চলছে স্টল নির্মাণের তোড়জোড়। তবে একাডেমি ও উদ্যানের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা, কোথাও কোথাও গর্ত। মূলত মেট্রোরেলের কাজের খোঁড়াখুঁড়ির জন্যই রাস্তার এ অবস্থা। অবশ্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলছেন, ‘আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা ঠিক করা হবে। এরপর পুরো ফেব্রুয়ারি মাস এই রাস্তায় মেট্রোরেলের কাজ বন্ধ থাকবে। বিষয়টি নিয়ে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সঙ্গে মেট্রোরেল কর্র্তৃপক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়েছে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা মেরামত হলেও মিরপুর, উত্তরা থেকে ফার্মগেট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত আসতেই বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হবে বইপ্রেমীদের। ফার্মগেট-শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তায় চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত আসতেও একই রকম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
শাহবাগ কিংবা দোয়েল চত্বর এলাকায় প্রবেশের পর দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কম হবে বলে মনে করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘বাংলামোটর কিংবা পল্টনের রাস্তা মেরামতের কাজে ভোগান্তি কিছুটা হবে। তবে মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে নান্দনিক পরিবেশ থাকবে। টিএসএসি এবং দোয়েল চত্বরে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেবে না পুলিশ। যানজট যাতে তৈরি না হয় সেজন্য শাহবাগ থেকে টিএসসি, নীলক্ষেত থেকে টিএসসি এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার এলাকায় গাড়ি রেখে হেঁটে মেলায় প্রবেশ করতে হবে।’ এদিকে মেলার সবশেষ প্রস্তুতি এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে গতকাল দুপুরে পরিদর্শনে যান একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর ড. গোলাম রব্বানি, শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (অঞ্চল-১) নির্মল চন্দ্র দে প্রমুখ। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাসব্যাপী বইমেলা উদ্বোধন করবেন।