সন্তানদের আত্মহত্যার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী ৩০ পরিবার। সম্প্রতি মোলি রাসেল নামে এক কিশোরীর আত্মহত্যার জন্য তার বাবা-মা ইনস্টগ্রামকে দোষারোপ করেন। এরপরই আরও পরিবার একই অভিযোগ আনতে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে।
ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৭ সালে নভেম্বরে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে নিজের কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মোলিকে। তার বাবা-মায়ের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সৃষ্টি হতাশা, দুঃশ্চিন্তা থেকে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
সম্প্রতি মোলির বাবা ইয়ান রাসেল মেয়ের আত্মহত্যার জন্য ছবি আদান-প্রদানের যোগাযোগমাধ্যম পিন্টারেস্ট ও ইনস্টগ্রামকে দায়ী করেছেন। এখানে শেয়ার হওয়া নানা 'ক্ষতিকারক' ছবি মোলিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
পিন্টারেস্টে ভার্চুয়াল স্ক্র্যাপবুকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিভিন্ন ‘ক্ষতিকারক’ ছবি সংরক্ষণ করতে পারে ব্যবহারকারীরা।
এতে নিজেকে আহত বা আঘাত করার ছবিও থাকে। ১৩ বছর বয়সের ব্যবহারকারীরা এসব ছবি দেখতে পারে। এমনকী আত্মহত্যা করার প্রতি ইচ্ছা প্রকাশ করেও অনেকে ইমেজ শেয়ার করে থাকে, যা অন্যজনকেও আত্মহননের পথ বেছে নিতে উস্কে দেওয়ার কাজ করে।
এমনকী অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এসব ছবি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ই-মেইলেও পাঠানো হয়। এরকমই কিছু ছবি মোলির ই-মেইলে পাওয়া যায়।
এদিকে শিশু আত্মহত্যা রোধে কাজ করা প্যাপিরাস নামক একটি সংগঠন জানায়, শুধু মোলি নয় এরকম আরও ৩০টি পরিবার তাদের সন্তানদের আত্মহত্যার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই দায়ী করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কন্টেন্ট অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের আত্মহত্যার প্রতি ঝুঁকে পড়তে সহায়তা করে। ব্যবহারকারীরা ছবিসহ বিভিন্ন কন্টেন্টে নিজেরদের হতাশা ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে থাকে যা অগোচরে অন্যদেরকেও আক্রান্ত করে।
বাবা-মায়ের অগোচরে সন্তানরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে বলে সহজে তাদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়বদ্ধতার প্রতি আরও বেশি কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সেখানে প্রকাশিত এমন কোনো কনটেন্ট মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে না দেয়।