শপথ নিলে দুই বিজয়ী প্রার্থীকে বহিষ্কার করবে গণফোরাম

সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিলে মৌলভীবাজার-২ থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খানকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার কার হবে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, সরকার তাদের বৈধতার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত দুই এমপিকে শপথ নেওয়ার জন্য টোপ দিচ্ছে। এ টোপে কেউ সাড়া দিলে বহিষ্কার করা হবে। জনগণের সামনে জাতীয় বেইমান হিসেবে  তারা আখ্যায়িত হবেন।

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন ‘ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় চেপে বসা আওয়ামী লীগ তাদের বৈধতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। নিচ্ছে নানা কূটকৌশল। এতে তাদের দুর্বলতা আরও প্রকাশ পাচ্ছে।’

এদিকে সোমবার গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শপথ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়েছে তা এখনো বহাল আছে। 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করা গণফোরাম সদস্য সুলতান মোহাম্মাদ মনসুর আহমেদ ও গণফোরামের উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচন করা মুকাব্বির হোসেন খান গণমাধ্যমে বলেছেন, তারা শপথ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

এই দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে যে বক্তব্য রেখেছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি তাদের ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল আছে। এর বাইরে গিয়ে কেউ যদি শপথ নেন তবে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

এদিকে, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে কিংবা কোনো কারণে সদস্যপদ বাতিল হলে উপনির্বাচনের মাধ্যমে এই দুই সংসদ সদস্যকে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত করে সংসদে নিয়ে আসবে, সরকারের তরফ থেকে ওই দুই নেতাকে (সুলতান মনসুর ও মুকাব্বির হোসেন খান) এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘সেটি তাদের বিষয়। তবে এতে আওয়ামী লীগের অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসার বিষয়টি জনগণের সামনে আরও স্পষ্ট হবে। জনগণ বুঝতে পারবে তাদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করে ক্ষমতায় চেপে বসা আওয়ামী লীগ কতটা নীচে নেমেছে'।

অন্যদিকে, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তথা জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় ও অটুট আছে। গণফোরাম তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদে যোগদান করছে- এ ধরনের সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যা অসত্য ও ভিত্তিহীন। সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে গণফোরামের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।