বেলকুচিতে ২০ হাজার মানুষের ভরসা নড়বড়ে সাঁকোটি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচির দুঃখ তিন শ ফুট বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মাঝেমধ্যেই স্কুলগামী শিশুরা সাঁকো ভেঙে ঝুপ ঝুপ করে পড়ছে নদীতে। বয়স্ক কেউ কেউ দুর্ঘটনায় হাত-পা হারাচ্ছেন। উৎপাদিত ফসলের বোঝা নিয়ে পানিতে পড়ে অসহায় হচ্ছেন কৃষক।

সাঁকোটির অবস্থান উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীপুরা-মধ্যদেলুয়া গ্রামের যমুনার শাখা নদীর ওপর। এলাকাবাসউর চাঁদায় নির্মিত নড়বড়ে এ সাঁকোটিই এ অঞ্চলের ১২ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। গ্রামগুলো হলোÑ রানীপুরা, বেড়া খারুয়া, পূর্ব দেলুয়া, মধ্যদেলুয়া, পশ্চিম দেলুয়া, দক্ষিণ দেলুয়া, রতনকান্দি, মনতলা, বারপাখিয়া, মূলকান্দি, দশখাদা ও বড়ইতলা।

মধ্যদেলুয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক, হোসেন আলী, আবদুস সাত্তার, আবদুল মতিন, আনোয়ার হোসেন, রানীপুরা গ্রামের শামীম রেজা, আবদুল জব্বার, খলিল সরকার, আবদুল লতিফ ও বেড়া খারুয়ার নূরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে সবাই সেতুটি নিয়ে দুঃখের কথা জানান। তারা বলেন, এসব চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে থাকে। এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে অনেক বয়স্ক মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে হাত-পা হারাচ্ছেন। আর ছোট ছোট কোমলমতি স্কুল-কলেজগামী শিশুদের পারাপারের অবস্থা আরও করুণ এবং ভয়াবহ। শুষ্ক মৌসুমে তাদের পারাপার কিছুটা সহজ হলেও বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি টইটম্বুর থাকে। তখন প্রায়ই শিশুরা বই-খাতা নিয়ে ঝুপ ঝুপ করে পানিতে পড়ে যায়। অনেক শিশু স্রোতের টানে ভেসে যায়। তাদের উদ্ধারে এলাকাবাসী পোহান ভোগান্তি। কৃষি এবং সেচযন্ত্র পারাপার করতে না পেরে উৎপাদনে পড়ে ভাটা। সাঁকোটির ব্যাপারে বেলকুচি সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল কুদ্দুস ভুট্টো বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে কোথাও থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না পেয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা চাঁদা তুলে এবং এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে এই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এ সাঁকোটির সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচ এলাকাবাসীই বহন করে আসেছে। এরই মধ্যেই সাঁকোটির বাঁশ খুঁটি পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। সাঁকোটিও নড়বড়ে হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে পায়ই এখানে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

বেলকুচি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর্জা সোলায়মান হোসেন জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এখানে একটি কংক্রিট ব্রিজ নির্মাণ অতি জরুরি।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিউজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এ ব্যাপারে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।