স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নূরজাহান হামিদাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, দুদক হটলাইনে (১০৬) ভুক্তভোগী অভিভাবকরা সোমবার অভিযোগ জানালে মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী তাৎক্ষণিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক নার্গিস সুলতানা ও উপসহকারী পরিচালক মো. সবুজ হাসানের সমন্বিত দল এই অভিযান চালায়। শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাবদ বেআইনি অর্থ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষিকা নূরজাহান বাধ্যতামূলকভাবে বিনা রসিদে এক হাজার থেকে ১৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। এমনকি হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সন্তানকেও বিনামূল্যে ভর্তি করানো হয়নি, বরং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ভর্তি বাবদ প্রধান শিক্ষিকা মোট পাঁচ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসব টাকার আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব রাখা হয়নি। দুদক দলের কাছে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনা স্বীকার করেন নূরজাহান।
অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরপরই দুদক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এরপরই নূরজাহানকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে মন্ত্রণালয়। অভিযান প্রসঙ্গে মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা খাতে দুর্নীতির শেকড় উৎপাটনে কঠোর অভিযান চালাবে দুদক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও প্রতিরোধমূলক মানসিকতা থাকতে হবে।’ বেআইনিভাবে আদায় করা অর্থ অভিভাবকদের কাছে দ্রুত ফেরত দিতে মতিঝিল সরকারি বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।