বন্দর নগরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে ১৪টি দোকান ও তিনটি সুপারশপ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতে সিডিএ দোকান নির্মাণের কথা জানালেও চসিক ও সিএমপি বলছে, এসব স্থাপনা সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দুর্ভোগ বাড়াবে।
জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরীর সব রাস্তাঘাট সিটি করপোরেশনের অধীনে। সেখানে কিছু করতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। যেকোনো ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও। যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। সেই ফ্লাইওভারের নিচে কেন দোকান নির্মিত হবে? এসব দোকান নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তা বন্ধে আমরা সিডিএকে চিঠি পাঠাব।’
সিডিএ জানায়, নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যান চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত র্যাম্পের নিচে (নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে) আটটি, এর বিপরীত পাশে (সানমার ওশান সিটির পাশে) ছয়টিসহ মোট ১৪টি দোকান এবং ফ্লাইওভারের নিচে নগরীর লালখানবাজার, মুরাদপুর ও বেবি সুপার মার্কেটের সামনে তিনটি সুপারশপ নির্মাণ করা হবে।
গত বছর ২৪ ডিসেম্বর সিডিএ স্থানীয় পত্রিকায় দোকান ও সুপারশপ বরাদ্দের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেয়। সে অনুযায়ী, প্রতিটি দোকানের আয়তন ১৩২ বর্গফুট এবং প্রতিটি সুপারশপের আয়তন হবে ৭ হাজার বর্গফুট।
এ ব্যাপারে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ১২ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। এসব খরচ মেটাতে র্যাম্পের নিচে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে দোকান নির্মিত হবে, সেখানে যান চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। এ বিষয়ে আমরা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি।’
সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘ফ্লাইওভারের নিচে দোকান নির্মাণের বিপক্ষে সিএমপি। সিডিএ হোক আর সিটি করপোরেশন হোক, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে, এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না। সিডিএকে বিষয়টি জানিয়েছি। ওইসব স্থানে দোকান নির্মাণ হলে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। সেটি তো কারও কাম্য নয়।’