স্কুলের পাশে অপহৃত শিশুর মাটিচাপা মৃতদেহ

ঢাকার ধামরাইয়ে অপহরণের চার দিন পর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে শিশুটিকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পুলিশ দুই অপহরণকারী মাজেদুল ইসলাম (২৮) ও মানছুর রহমানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আশুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ধামরাই থানা পুলিশ।

নিহতের নাম মনির হোসেন (৫)। সে ঢাকার ধামরাই উপজেলার আশুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী সোনা মিয়া ওরফে কালা মিয়ার ছেলে।

নিহতের বাবা জানান, গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশে সালাম মেম্বারের ধানের চাতালে খেলতে যায় মনির। সন্ধ্যার পরও সে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও ছেলেকে না পেয়ে পরদিন রোববার ধামরাই থানায় বিষয়টি জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সোনা মিয়া।

এদিকে গত সোমবার বিকেলে তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ধামরাই থানা পুলিশকে জানানো হলে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সোমবার রাতেই পুলিশ সোনা মিয়ার প্রতিবেশী মাজেদুল ইসলাম (২৮) ও মানছুর রহমান (২৫) নামের দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।

রাতভর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা মনির হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ধামরাইয়ের আশুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে শিশু মনিরের লাশ উদ্ধার করে ধামরাই থানা পুলিশ।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ঘটনার দিনই শিশু মনিরকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে ওই নম্বরটি ট্র্যাকিং করে তাদের দুই খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিশু মনিরের লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ হত্যার পেছনে মুক্তিপণ ছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।