এবার আর বাধা হতে পারল না রাজশাহী কিংস। রংপুর রাইডার্স তাদের হারল সহজেই। দুই দলের প্রথম দেখায় তারকা বহুল রংপুরকে হারিয়ে এক রকম অঘটনই ঘটিয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন রাজশাহী।
মঙ্গলবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে রাজশাহী। জবাবে ৮ বল হাতে রেখেই মাত্র ৪ উইকেট খুইয়ে জয় নিশ্চিত করেছে রংপুর।
এ নিয়ে টানা ৫ ম্যাচে জয় তুলে নিল আসরের অন্যতম ফেভারিটরা। উঠে গেল শীর্ষে। প্লে-অফও নিশ্চিত হলো তাদের। ১১ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করল গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। এক ম্যাচ কম খেলে সমান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কুমিল্লা। দলটিও উঠে গেছে সেরা চারে।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ক্রিস গেইল এদিন যথারীতি ব্যর্থ। ১৪ বলে মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। রংপুরের উদ্বোধনী জুটির পতন তাই ১৩ রানেই। আগের ম্যাচে অপরাজিত ৮৫ রান করা অ্যালেক্স হেলস এদিন ১৬ রানের বেশি করতে পারলেন না। দলীয় ৫৪ রানে বিদায় দেন তিনি কায়েস আহমেদের বলে বোল্ট হয়ে।
এরপর রাইলি রুশো ও এবি ডি ভিলিয়ার্স তৃতীয় উইকেটে ৭১ রান যোগ করে রংপুরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেন। তবে পর পর দুই ওভারে মাত্র দুই রানের ব্যবধানে এই দুজন প্যাভিলিয়নে ফেরেন। রুশোকে বোল্ড করেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। ৪৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রান করেন রুশো। আর আরাফাত সানির শিকার হওয়ার আগে ২৭ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ রান করেন ডি ভিলিয়ার্স।
মোহাম্মদ মিথুনকে নিয়ে রংপুরের বাকি কাজটা সারেন নাহিদুল। মিথুন অপরাজিত ৪ ও নাহিদুল অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। রাজশাহীর পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মিরাজ, আরাফাত সানি, কায়েস আহমেদ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।
এর আগে রাজশাহী নিজেদের ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টির ছন্দটাই খুঁজে পেল না। দলটির হয়ে যা একটু সফল চার নম্বরে খেলতে নামা লরি ইভান্স। এবারের আসরে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানো এই ব্যাটসম্যান এ ম্যাচে খেললেন ৩৫ রানের ইনিংস। তার আগে ও পরে কেউই সেভাবে সফল হতে পারলেন না।
দুই ওপেনার জনসন চার্লস ও সৌম্য সরকার ফিরেছেন উইকেটে থিতু হয়ে। চার্লস ১২ রান করে ফরহাদ রেজার শিকার। সৌম্য ১৪ রান করে ফিরেছেন শহিদুল ইসলামের বলে। তিনে নামা মুমিনুল হক ৪ রানের বেশি করতে পারেননি। পাঁচে নেমে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৬ রান করে ফেরেন।
ক্রিস্তিয়ান জঙ্কার ১১ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৬ রান করেন। রাজশাহী শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্কোরটাকে ভদ্রস্থ করেছে ফজলে মাহমুদ ও কায়েস আহমেদের ব্যাটে। এই দুজন সপ্তম উইকেটে ৪০ রান যোগ করেন।
ফরহাদ রেজার করা শেষ ওভারে পর পর দুই বলে ফিরেছেন এই দুজন। ফরহাদ রেজা তাতে জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। ফজলে মাহমুদ ২৪ বলে ২ চারে ১৮ ও কায়েস ২০ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রান করেন।
রংপুরের পক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ফরহাদ রেজা। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। ১ উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম।