জাবিতে পৃথক ঘটনায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশ্লীলতা, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক লাঞ্ছনা ও মাদক সেবনের দায়ে মোট ১৭ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার হয়েছে। এ ছাড়াও ৩২ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অপরাধে সতর্ক করে দিয়ে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার বহিষ্কার ও সতর্কীকরণের বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়। গত ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৩০৪ তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, অফিস আদেশ অনুমোদন করা হয় গতকাল মঙ্গলবার।

অফিস আদেশ থেকে জানা যায়, এক ছাত্রীর আনা অশ্লীলতা ও নিপীড়নের অভিযোগে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৫ ব্যাচের ১১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে নাঈম-ই-আক্তার, ইজাজ আহমদে, মেহেদী হাসান, ইকবাল হোসেনকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়েছে ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সজিব হোসাইন, আল-আমিন শৈশব, আবু নাঈম, জি এম তারিকুল ইসলামকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শাহরিয়ার খানকে ৩ মাসের জন্য বহিষ্কার ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং নাহিদুল ইসলাম ও ওমর ফারুককে বিনা অর্থদণ্ডে ৩মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শাস্তিকালীন মেয়াদে এসব শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। এ ঘটনায় আরও ৩ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

এ মাসের ৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এক ছাত্রী ও দুই ছাত্রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে নাট্যতত্ত্ব বিভাগের রিজওয়ান রাশেদ সোয়ান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কে এম মাহিদ হাসান, মার্কেটিং বিভাগের আহসানুজ্জামান শাওনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এরা সবাই ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে মাদক সেবনের দায়ে সিএসই বিভাগের ৪২ ব্যাচের মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সায়েম এবং বাংলা বিভাগের ৩৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মইন উদ্দিন জনিকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সতর্ক করা হয়েছে আরও ৮জনকে।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের এক ছাত্রীর আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই বিভাগের ৪৩ ব্যাচের আজগর হোসেন রাব্বিকে ৩ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সতর্ক করা হয়েছে আরও ২ জনকে।