পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুই যুবক

হ্যাঙ্ক ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল, হাতে ওয়াকিটকি, কোমরে পিস্তল আর হ্যান্ডকাপ নিয়ে যশোর শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুই যুবক। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির নামে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। একই দিনে এ ধরনের ৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সুমন মল্লিক জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার দিকে তিনি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাছে দুটি ল্যাপটপ ছিল। এ সময় একটি হ্যাঙ্ক ব্রান্ডের মোটরসাইকেলে আচমকা দুই ব্যক্তি তার সামনে এসে দাঁড়ান। তারা নিজেদেরকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দেন। ওই দুই ব্যক্তি তল্লাশির নামে তার কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন সেট নেন। বলা হয় ওই ল্যাপটপ ছিনতাই করা। এরপর কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যান। তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তিরা তাকে গালিগালাজ ও মারধরও করেছিলেন। 

একই দিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে একইভাবে ঘটনার শিকার হয়েছেন যশোর সরকারি এমএম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র আনন্দ কুমার সরকার। তিনি জানান, প্রাইভেট পড়িয়ে শহরের ঘোপ দিয়ে আসছিলেন। কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে একটি হ্যাঙ্ক ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলে আচমকা দুই ব্যক্তি এসে তার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা নিজেদের সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তাদের কাছে ওয়্যারলেস সেট ও পিস্তল ছিল। এ সময় তারা তাকে বলেন,‘আমাদের কাছে খবর আছে তোমার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে’। জবাবে আনন্দ কুমার সরকার তাদের জানান, তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট নেই। কিন্তু তারা তার কথা শুনতে চাননি। ‘মোবাইল ফোন চেক করে দেখব’-এই কথা বলে তারা তার কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা মূল্যের একটি ব্লু বিভো ও ৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেন। এরপর আনন্দ কুমার সরকারকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা। তাকে কোতোয়ালি থানার পাশে নামিয়ে দিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। আনন্দ কুমার সরকার জানান, এ বিষয়ে তিনি থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে শহরের পালবাড়ির মোড়ে শাকিল নামে এক কিশোরের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন সেট ছিনতাই হয়। খয়েরতলার বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল জানান, তিনি তার মামার চায়ের দোকানে কাজ করেন। ঘটনা সময় তিনি পালবাড়িতে বন্ধু সাকিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এ সময় একটি হ্যাঙ্ক ব্রান্ডের মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে তার গতিরোধ করেন। তারা ইয়াবা ট্যাবলেট আছে কি-না তল্লাশির কথা বলে তার কাছ থেকে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে তারা তাকে মারধর করে চলে যান।

শাকিল জানান, তাদের কাছে হ্যান্ডকাপ, পিস্তল ছিল। তিনি জানান, অনেক কষ্ট করে ১৬ হাজার টাকা জমিয়ে ওই শখের মোবাইল ফোন সেট কিনেছিলেন। এ বিষয়ে শাকিল কোতোয়ালি থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছে।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আনছার উদ্দিন জানান, এ ধরনের কোন ঘটনা তার জানা নেই।

কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, এই ধরনের মৌখিক অভিযোগের বিষয় আমার কানে এসেছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সাদা পোশাক পরে দাপিয়ে বেড়ানো এরা পুলিশ নয় বলে তিনি জানান।