দেশের নদনদীকে ‘জীবন সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন আদালত যা অন্য নদনদীগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তুরাগ নদী রক্ষা-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের রায়ে বুধবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ মন্তব্য আসে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে জীবন সত্তা হিসেবে নদনদীও এখন থেকে আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবে। বুধবার অসমাপ্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত।
বৃহস্পতিবার নদী রক্ষা বিষয়ে অবশিষ্ট রায় ঘোষণা হবে। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি জানান, তুরাগ নদী নিয়ে বিচারিক তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ৩৬টি অবৈধ দখলের চিত্র বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে হাইকোর্টে শুনানির প্রেক্ষিতে এসব মন্তব্য করেন আদালত।
মনজিল মোরসেদ বলেন, দেশে সাড়ে চার শ নদনদী রয়েছে। সব নদনদী বিষয়ে একই সঙ্গে আদেশ দেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে আদালত একীভূতভাবে নদীগুলোকে ‘জীবন সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আদালতের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, জীবন্ত সত্তা হিসেবে মানুষ যেমন সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করে, আদালতের এই রায়ের মধ্যে দিয়ে নদীর ক্ষেত্রেও তেমন কিছু মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হলো।
তিনি বলেন, হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছেন, অবৈধ দখলদারদের মাধ্যমে দেশে প্রতিনিয়ত কম বেশি নদী দখল হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় নদীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
আদালত আরো বলেছেন, নাব্যতা ও বেদখলের হাত থেকে যদি নদীগুলো রক্ষা করা না যায় তাহলে বাংলাদেশ তথা মানবজাতি সংকটে পড়তে বাধ্য।