ভেনেজুয়েলা সংকটে নতুন মোড়

স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জারির পর দেশটির রাজনৈতিক সংকটাবস্থা নতুন মোড় নিয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গত বুধবার স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গুইদোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক স্থিতিশীলতায় গুরুতর আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে। হাইকোর্টের প্রেসিডেন্ট মাইকেল মোরেনো বলেন, হুয়ান গুইদো রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠার কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার দেশত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংসদের একজন সদস্য হিসেবে গুইদোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রুল জারি করতে হবে। গতকাল বুধবার সংসদে উপস্থিত হওয়ার পর গুইদোকে সাংবাদিকরা হাইকোর্টের রায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় তিনি বলেন, তার কাছে এমন পদক্ষেপ নতুন কিছু নয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগের কোনো হুমকিকে ভয় পাই না। কিন্তু আমরা এখানে আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।’

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে হস্তক্ষেপ করতে সাহায্য করেছেন গুইদো, এ অভিযোগে গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক সাব। একজন আইনপ্রণেতা ও জাতীয় পরিষদের প্রধান হিসেবে বিশেষ ছাড় থাকায় সর্বোচ্চ আদালতের অনুমতি ছাড়া গুইদোর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করা যায় না। আবেদন অনুমোদন করে সুপ্রিম কোর্ট গুইদোর বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তের অনুমতি দেয়। ভেনেজুয়েলার ৩২ সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট দ্রুততার সঙ্গে গুইদোর বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদনে সায় দিয়েছে। ‘মাদুরোর প্রতি শীর্ষ আদালতের আনুগত্যের’ কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করছে রয়টার্স। আরআইএ মিডিয়াকে মাদুরো বলেন, ‘কোন সন্দেহ নেই ট্রাম্প কলম্বিয়ান মাফিয়াকে আমাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’

বিশ্লেষকরা ভেনেজুয়েলার বিচার বিভাগের এমন পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। গুইদোর পেছনে শক্তি হিসেবে আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশ। উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ভালোর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি আমি। রাজনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশে আগাম সংসদ নির্বাচন দিতেও রাজি আছি।’

বৃহস্পতিবার দেশটিতে দুই ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেয় বিরোধীরা। কিন্তু ওই বিক্ষোভে হুয়ান গুইদোকে দেখা যায়নি। ১০ জানুয়ারি মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত বছর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জয়ী হন মাদুরো। বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন দাবি করছে। ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত মাদুরোর প্রতি অনুগত রয়েছে। সহিংস পরিস্থিতি ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে। মাদুরো সম্প্রতি দেশটির বেশ কয়েকটি সেনা ঘাঁটি সফর করেন।