ঢাকায় ঘুরে দাঁড়াবে ঢাকা!

টানা তিন ম্যাচে হারলেও ঘরের মাঠের শেষ খেলা জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। ঢাকায় ফিরে নতুন শুরুর অপেক্ষায়। গতকাল বিপিএলে তাদের কাছে হারা ঢাকা ডায়নামাইটস এখানে একটা ম্যাচও জিততে পারল না। সব মিলে টানা চার হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো। সেমিফাইনাল এখনো সাবেক চ্যাম্পিয়নদের জন্য নিশ্চিত নয়। মিরপুরে নিজেদের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে সেটা নিশ্চিত করার পণ করেছে ঢাকা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বিপিএলে গতকাল হোমটিম চিটাগংয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক ক্যামেরন ডেলপোর্ট। দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার আগে ব্যাট হাতে ৫৭ বলে ৭১ করেছেন। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে গড়েছেন মূল্যবান এক জুটি। মুশফিক করেছেন ফিফটি। বল হাতে ৩১ রানে ডেলপোর্টের দামি ১ উইকেট। স্বস্তির জয়ের পর চিটাগং নিজেদের সমর্থকদের ভিক্টোরি ল্যাপ দিয়ে বিদায় নিল।

এমন অতি প্রয়োজনীয় জয়ের পর ম্যান অব দ্য ম্যাচ ডেলপোর্ট জানালেন, ‘হ্যাঁ, আমরা খুব স্বস্তিতে। ঢাকা কয়েকটা ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হলো। আমরাও সেভাবে তিনটা ম্যাচ হেরেছি। অবশ্যই এখন ঠিক জায়গায় আছি আমরা। তাই স্বস্তি।’

অস্বস্তির কাঁটা বিঁধছে ঢাকার গায়ে খুব। টানা চার জয়ে সবার সেরার মতো টুর্নামেন্ট শুরু করেও এখন এই হাল! হাতে আরও দুটি ম্যাচ আছে। খেলা ঢাকাতে। ঘরে ফিরে বাকি হিসাবটা না মিলিয়ে উপায় নেই সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। তাদের দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু বার্চ বলছিলেন, ‘এখনো কোয়ালিফাই করতে পারলাম না। অবশ্য ঢাকায় এখনো দুই ম্যাচ আছে। আমাদের খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। অবশ্যই আমরা শেষ চারে যেতে পারব।’

শিরোপাপ্রত্যাশী সাকিব আল হাসানের ঢাকা। সেটির এই অবস্থা কেন? সমস্যাটা ঘটল কোথায়? ‘কিছু সুযোগে আমাদের জেতা উচিত ছিল। ঢাকাতেও আমরা ফিনিশিং দিতে পারিনি।’ বার্চ ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘এসব কারণে মোমেন্টাম আর আমাদের পক্ষে থাকেনি। আমরা কয়েকটা ম্যাচ হেরে গেলাম। কিন্তু এখন জরুরি হলো ঢাকায় গিয়ে সমবেত লড়াইয়ে ফিরে আসা। ঘরের দর্শকরা আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমি নিশ্চিত, আমরা যেমন করছি তার চেয়ে ভালো করব।’

কাল জিতেছে বটে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে চট্টগ্রামে পা রাখার পর কী হয়েছিল ভাইকিংস দলের? ‘ঠিক কম্বিনেশনটা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলাম। আমাদের কয়েকজন বিদেশি ইনজুরিতে। কেউ কেউ ঢুকেছে কেউ বেরিয়েছে (একাদশ থেকে)। তবে আমার মনে হয় শেষ কয়েকটি ম্যাচে পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি।’ অবশ্য আত্মবিশ্বাসী দলটা ১১তম ম্যাচে প্রবল পণ করেই নেমেছিল। ডেলপোর্ট বলছিলেন, ‘আমরা এমন বলছিলাম যে সব পেছনে ফেলা যাক। দুই পয়েন্ট পেলেই কোয়ালিফাই করা যায়। ওটাই আজ আমাদের চাই। একে অন্যকে সহায়তা করে নিজেদের খেলাটা খেলতে চেয়েছি।’ তার ফলেই নিজেদের শহরে চিটাগং ভাইকিংসের শেষটা হলো মধুর।