ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছে প্রশাসন: ছাত্রজোট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় হওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানায় প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

সেখানে ছাত্রজোট অভিযোগ করে, অধিকাংশ ছাত্রসংগঠনের দাবি সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে না করে হলে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে৷ ক্যাম্পাসে ও হলে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র দখলদারি কায়েম রয়েছে, যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্তরায়।

তারা বলে, ভোটকেন্দ্রগুলো আবাসিক হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে এবং ডাকসুহল সংসদের ফি প্রদানকারী সব শিক্ষার্থীর ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে

ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তারা এসব দাবির বাস্তবায়ন চান। 
দাবি পূরণে আগামী রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করবে জোটের কেন্দ্রীয় কমিটি৷সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক
রাশেদ শাহরিয়ার

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বুধবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বৈঠকে যেভাবে ছাত্রসংগঠনগুলোর মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ডাকসুহল সংসদের ফি যারা দেন, তাদের ভোটার ও প্রার্থী করার বিধান না রেখে অগণতান্ত্রিকভাবে প্রার্থী হওয়ার বয়সসীমা ৩০ নির্ধারিত হয়েছে।

তারা আরো বলে, ক্যাম্পাসে ও হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা আমাদের চোখে পড়েনি৷

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷