সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে টানাপড়েন চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টে ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। বাইরে হয়ত তারা প্রকাশ করছেন না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে তারা টানাপোড়েনে আছেন সেটা স্পষ্ট। তাদের নির্বাচিত সদস্যরা ভোটারদের প্রেশারে আছেন। তারা কত দিন দলের বা কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে ধৈর্য ধরবেন এটা আমাদের ভাবতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নগর ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কার্যালয়ে এক সভায় সাংবাদিকদের এসব বলেছেন সেতুমন্ত্রী।
সংসদ বাতিল করে বিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবিকে হাস্যকর মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে তাদের উচিত সংসদে যোগ দেওয়া। সংসদে গিয়ে কথা বলা। তারা সংসদে এবং সংসদের বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ নির্বাচন নিয়ে দেশে জনগণের প্রকাশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো অভিযোগ দেশে-বিদেশে নেই। শুধু বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছে।
তিনি আরো বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে যোগাযোগ করে বিএনপি এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল। তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে আজ সারা বিশ্ব থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে অবিরাম বার্তা আসছে।
নির্বাচিত সদস্যরা শপথ না নিলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে দাবি করে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখতে চাইলে তাদের নির্বাচিত সদস্যদের অবিলম্বে শপথ নিয়ে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নেয়া উচিত। অন্যথায় অস্তিত্বই তাদের বিপন্ন হবে।
সংসদে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিব্রত হওয়া সম্পর্কিত ১৪ দলের শরিক নেতা রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেছেন, তিনি কোথায় বিব্রতবোধ করছেন এটা তার সঙ্গে আলাপ করে আমরা জেনে নেব। তবে তিনি যে চেয়ারে রয়েছেন সেখানে থেকে সরকারের সমালোচনার অধিকারও তাকে দেওয়া হয়েছে। সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে বলাটাই তো গঠনমূলক না। এখানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। সরকারের পক্ষে কিছু থাকলে সেটাও বলবেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এদিন প্রথমবারের মতো ডিটিসিএ কর্তৃপক্ষের কার্যালয় পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামসহ ডিটিসিএ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, যেগুলো আগেও নেয়া হয়েছিল কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি সেগুলো আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো, শুক্র ও শনিবার ছাড়া মহানগরীর রাস্তায় র্যালি করা যাবে না, রাস্তা বন্ধ করে সভা সমাবেশ করা যাবে না, পথচারীদের কাছে ফুটপাত ফিরিয়ে দিতে হবে।