বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ৩৮ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে ৩৮ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এ বন্দরটি কাগজ-কলমে দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও এখনো অবহেলিত। উত্তরাঞ্চলের একমাত্র সর্ববৃহৎ এ নৌবন্দরটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত।

বাঘাবাড়ী বন্দরে পণ্য খালাসের কাজে নিয়োজিত রয়েছে চার শতাধিক জাহাজশ্রমিক। কিন্তু তাদের জন্য ভালো কোনো শৌচাগার পর্যন্ত নেই। নেই কোনো বিশ্রামাগার। দুবেলা খাবার খেতে হয় খোলা আকাশের নিচে বসে। প্রয়োজনীয় পন্টুনের অভাবে শ্রমিকরা কাঠের পাটাতন অথবা বাঁশের মাচা ব্যবহার করে পণ্য খালাস করেন। এতে প্রায় প্রতিদিনই তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। গত তিন দিন আগেও কাঠের পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে ১০ শ্রমিক আহত হন। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কার্যক্রম নৌবন্দরটি এখনো অবহেলিত। দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। লেবার সরদার রওশন আলী, শফিকুল ইসলাম ও লাল মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠার সময় থেকে তারা এ বন্দরে পণ্য খালাসের কাজ করেন। প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে এসে কাজে যোগ দেন। আসার সময় সঙ্গে করে সকালের ও দুপুরের খাবার নিয়ে আসেন। খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে ১২টার মধ্যে দুপুরের খাবার খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে কাজ করতে তাদের কষ্ট হয়। পন্টুন সংকটের কারণে মাল খালাস করতে গিয়ে প্রায়ই নদীতে পড়ে শ্রমিকরা আহত হন।

নৌবন্দরে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হলেও গত তিন বছরেও চালু হয়নি। এখানে একটি আবহাওয়া অফিস রয়েছে। অথচ গত ১০ বছরেও সেটা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। লেবার এজেন্ট আবুল সরকার বলেন, নৌবন্দরটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও অবকাঠামোগত কোনো সুবিধা নেই। শ্রমিকদের জন্য টয়লেট, বাথরুমসহ আধুনিক মানের একটি বিশ্রমাগার নির্মাণের দাবি জানান তিনি। বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান জানান, খুব তাড়াতাড়ি বন্দরটির আধুনিকায়ন শুরু হবে। শ্রমিকদের বিশ্রামাগার, শৌচাগার, সার রাখার শেড নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।