মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এজাহার থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাসে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ও তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা রাসেলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগটি তুলেছেন গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের গোলাপের পরিবার।
এ নিয়ে নবীগঞ্জে নানা আলোচনা-সমালোচনা ঝড় বইছে। প্রায় দুই বছর ধরে গোলাপ জেলে রয়েছেন।
শনিবার রাতে কায়স্থগ্রাম বাজারে মানবতাবিরোধী মামলার আসামি গোলাপের পরিবার ও ছয় মৌজাবাসীর পক্ষ থেকে এক সভা আহ্বান করা হয়। গজনাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাইয়ূম সেলিমের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবুল খায়ের গোলাপের বড় বোন মনোয়ারা বেগম, ছোট বোন আনোয়ারা বেগম, ও তার স্ত্রী মিনারা বেগম।
এ সময় তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, গজনাইপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহনেওয়াজ ও তার ছেলে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আমিন রাসেল আবুল খায়ের গোলাপকে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক দফায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তারা জানান, টাকা দেওয়ার পরও সাবেক চেয়ারম্যান গোলাপকে বের করে আনার কোনো চেষ্টা তারা করেনি। এখন আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে না, গোলাপকেও জেল থেকে বের করে আনছে না।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুরুব্বি মহিবুর রহমান চৌধুরী, ইউপি আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার মিয়া, মনিদ্র চন্দ্র রায়, কাছন মিয়া, শফিউল আলম বজলু, মকসুদ চৌধুরী, সাবেক ইউপি সদস্য শাহ গোলাম ইজদানী শামীম, বিশিষ্ট মুরুব্বি আমিনুল ইসলাম এলাইছ, ছনর মিয়া, কাপ্তান মিয়া, আলা মিয়া চৌধুরী, সফিক মিয়া, ইউপি সদস্য জাহেদ আহমদ, আব্দুল মালিক, ছাও মিয়া, সাদিক মিয়া, কাজল মিয়া, জালাল মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সদস্য রুহেল আহমদ, ইউপি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লাল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আইয়ুব আলী, আবু মিয়া, সেকুল মিয়া, যুবলীগ নেতা জিলু মিয়া, অয়তুন মিয়া, মোবারক মিয়া, সাবাজ মিয়া, শাহিন মিয়া, সৈরত মিয়া, আব্দুল হাই, টনু মিয়া, রাজা মিয়া প্রমুখ।
এ সময় দিনারপুর পরগণার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই গজনাইপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আতানগিরী গ্রামের রইচ উল্লাহর স্ত্রী শুকুরি বিবি বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়ে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল আবুল খায়ের গোলাপকে নিজ বাড়ি থেকে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকেই তিনি কারাবাসে রয়েছেন।
এদিকে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আমিন রাসেলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ও তার বাবা টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোলাপের পরিবারের সঙ্গে আমাদের আগের বিরোধ রয়েছে। তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি এমন প্রমাণ দেখাতে পারবে না। শনিবার থেকে আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।