চ্যালেঞ্জিং একটা লক্ষ্যই দাঁড় করিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। কিন্তু বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সেই লক্ষ্যটাও ছোট বানিয়ে আনল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটে নিল তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
সোমবার বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরকে ৮ উইকেটে হারায় কুমিল্লা। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান করে রংপুর। জবাবে এভিন লুইসের সত্তোরোর্ধ রান ও শামসুর রহমান শুভর ছোট্ট ঝড়ে সহজেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় কুমিল্লা। সেটি মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৭ বল হাতে রেখেই।
রংপুর হারলেও ফাইনালে ওঠার আরো একটি সুযোগ পাচ্ছে দলটি। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে খেলবে দলটি।
গেল বার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুটি দল। সেবার বেশ নাটক হয়েছিল বৃষ্টির বাগড়ায় পড়া ম্যাচটি নিয়ে। লিগ পর্বে সেবার দুইবারের দেখাতেই জেতে কুমিল্লা। কিন্তু কোয়ালিফায়ারে হার। এবার যেন রংপুরকে সবকিছু ফিরিয়ে দিল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা। লিগ পর্বে রংপুরের কাছে দুইবারের দেখাতেই অসহায়ভাবে হেরেছিল কুমিল্লা।
লিগ পর্বে রংপুরের সঙ্গে প্রথমবারের দেখায় ৭২ আর দ্বিতীয় দেখায় ৬৩ রানে অল আউট হয় কুমিল্লা। দুই ম্যাচেই হার ৯ উইকেটে। এদিন অবশ্য বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কুমিল্লা পথ হারাল না। তামিম ইকবাল ভালো খেলতে খেলতে ফিরলেন ব্যক্তিগত ১৭ রানে। কুমিল্লার দলীয় রান তখন ৩৫। এরপর কুমিল্লার এবারের গল্পটা অন্যভাবে লিখলেন এভিন লুইস। এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে গড়লেন ৯০ রানের জুটি।
এনামুল ৩২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৯ রান করে ফেরেন শফিউলের বলে বোল্ড হয়ে। এরপর লুইসের সঙ্গে শামসুর যোগ দিয়ে তুললেন ঝড়। ১৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করলেন অপরাজিত ৩৪ রান। তাতেই আর কোনো উইকেট না হারিয়ে জয় কুমিল্লার।
গেলবার শামসুরকে দলে নিয়েও মাঝ পথে ছেড়ে দেয় রংপুর। আসল ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে তারই শোধ যেন নিয়ে নিল জাতীয় দলের সাবেক এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিবিয়ান তারকা লুইস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে যান ৭১ রানে। তার ৫৩ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৫টি চার।
এদিন বেনি হাওয়েলের ঝোড়ো ফিফটিতে লড়ার পুঁজি পায় রংপুর। শুরুতে রানের চাকা সেভাবে না ঘুরলেও এই ব্যাটার শেষ দিকে ঝড় তুলে দলকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দিয়েছিলেন। হাওয়েলের অপরাজিত ৫৩ রান ছাড়াও ৪৪ রান করেছেন রাইলি রুশো। ক্রিস গেইল করেন ৪৬ রান।
টুর্নামেন্ট জুড়ে বেশির ভাগই নিজের ছায়া হয়ে থাকা ক্রিস গেইল এদিন রান পেলেন। এই ক্যারিবিয়ান যে বড় ম্যাচের প্লেয়ার সেটিই মনে করাচ্ছিলেন। তবে তার ৪৪ বলে খেলা ৪৬ রানের ইনিংসটা আসলে এদিনের দাবি পুরোপুরি মেটাতে পারল না।
মেহেদি হাসানের বলে থিসারা পেরেরাকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১ ছক্কা ও ৬ চারে নিজের ইনিংস সাজান গেইল। ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ফেরেন কুমিল্লার বোলারদের তৃতীয় শিকার হয়ে। তার আগেই দলীয় ১৭ রানে ফিরে যান ওপেনার মেহেদি মারুফ (১)। দলীয় ৩৪ রানে মোহাম্মদ মিথুন (৩) কাটা পড়েন রান আউটে। এরপর গেইলের বিদায়ে কুমিল্লা ৬৭ রানে হারায় তৃতীয় উইকেট।
পাঁচে নেমে রবি বোপারাও ব্যর্থ হলেন। তবে রাইলি রুশো ও বেনি হাওয়েল খেললেন দারুণ। দুজন পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৭০ রান। রুশোকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ রান করেন রুশো।
তবে হাওয়েল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে গেছেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এই ব্যাটসম্যান। নাহিদুলকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১৯ রান। শেষ ওভারেই হাওয়েল ও নাহিদুল মিলে যোগ করেন ১৮ রান। নাহিদুল ৩ বলে ১ চারে ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
কুমিল্লার পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান, ওয়াহাব রিয়াজ ও সঞ্জিত সাহা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স: ১৬৫/৫ (২০ ওভার) (গেইল ৪৬, রুশো ৪৪, হাওয়েল ৫৩*; সঞ্জিত ১/১৪)
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৬৬/২ (১৮.৫ ওভার) (লুইস ৭১*, এনামুল ৩৯, শামসুর ৩৪*; মাশরাফী ১/৪৩)
ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: এভিন লুইস।