কম্বোডিয়ার এসিড সন্ত্রাস চলছেই কবে থামবে নরক যাতনা

২০১৭ সালের মার্চের এক সন্ধ্যায় কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে সৌন্দর্যচর্চার স্কুল থেকে ফিরছিলেন সর্ন চান্টি। ওই সময় এক লোক দৌড়ে এসে তার ব্যাগ টেনে ধরে মুখে এসিড ছুড়ে মারেন। এর অনেক পর ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুলেন্স গেলে চালক চান্টিকে ভেতরে ঢুকতে বলেন। কিন্তু তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চাইছিলেন না।

চান্টির অভিযোগ, হাসপাতালে যাওয়ার পর চালক তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে বের হতে দিচ্ছিলেন না। পরে ছেলেবন্ধু ৩০ ডলার দেওয়ায় তারা গাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান।

২৪ বছর বয়সী কম্বোডিয়ার তরুণী জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা নিতে তাদের ২৫ ডলার দিতে হয়। আর চিকিৎসার জন্য দিতে হয় আরও ৬০ ডলার। পরে একটি শ্রমিক সংগঠন হাসপাতালে গিয়ে সে বিল পরিশোধ করে। কম্বোডিয়ায় এসিড হামলার শিকার হয়ে বেঁচে যাওয়া ১৭ জনের একজন চান্টি, যাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল মঙ্গলবার সে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, এসিড হামলার ভুক্তভোগীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দিতে সাত বছর আগে পাস করা আইন কার্যকরে ব্যর্থ হয়েছে কম্বোডিয়া। ‘নরকের যাতনা কেমন-কম্বোডিয়ায় এসিড সহিংসতা’ শীর্ষক ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে এসিড হামলার সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে এইচআরডব্লিউর সঙ্গে কথা বলা একজনও ২০১২ সালে প্রণয়ন করা আইন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা পাননি। মানবাধিকার সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কম্বোডিয়ায় এসিড হামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে যাদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দরকার, তারা সেটা পান না। উল্টো নগদ অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হয় তাদের। সূত্র : আল-জাজিরা