নয় বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণকারী মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম আবদুল্লাহ আল মামুন ধর্ষণের ভিডিওর পর হত্যারও হুমকি দিয়েছিল।
বুধবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থেকে র্যাব-১ তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আশুলিয়ার বায়তুল মাহমুদ জামে মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি একই এলাকার তারিকুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করত।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ এর অধিনায়ক সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, ২৭ জানুয়ারি দুপুরে শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ২৮ জানুয়ারি ওই ছাত্রীর বাবা আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, ঘটনার পর শিক্ষক মামুন আশুলিয়া থেকে পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আত্মগোপন করে থাকে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ১৮ বছর ধরে আশুলিয়ার বাইতুল মাহমুদ জামে মসজিদে ইমামতি করছিল সে। ঘটনার দিন তার স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায় চলে যায়। শিক্ষার্থীরা তার কাছে বেলা ১২টার দিকে পড়তে আসে। মক্তবের পড়ানো শেষে অন্য ছাত্রছাত্রীদের চলে যেতে বলে এবং ভুক্তভোগীকে তার নিজের কক্ষ ঝাড়ু দিতে বলে। সবাই চলে যাওয়ার পর একপর্যায়ে জোর করে ভিকটিমের নগ্ন ছবি তুলে। তার নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। কাউকে এ বিষয়ে জানালে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয়।
ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণের ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২৮ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।