জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ঝুঁকি নেয়ার সাহস নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বুধবার ঐক্যফ্রন্টের ডাকা মানববন্ধনে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, রাজনীতি যখন সংকটে ঝুঁকি এবং দুঃসময়ে তখন যে নেতাদের ঝুঁকি নেয়ার সাহস নাই তারা কোনোদিন দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। এই দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির এখন প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে ইমেজ সংকট দূর করা। ইমেজ সংকট কাটিয়ে না উঠলে জনগণ তাদের আন্দোলনের ডাকে সাড়া দেবে না। কালো ব্যাচ, কালো পতাকা এবং মানববন্ধনের ডাক দেবে কিন্তু এতে সাড়া পাওয়া যাবে না। এসব নিয়েই তাদের থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেছেন, বিএনপি এখন কোনো ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দিলে তাতে জনগণের সাড়া পাবে না। কারণ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের জন্য দেশে-বিদেশে তারা ইমেজ সংকটে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূল থেকে যোগ্য প্রার্থীদের নাম আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে যেসব অভিযোগ এসেছে তা আমরা খতিয়ে দেখব। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রতিবেদন ছাড়াও তিনটি সংস্থার জরিপ থাকবে, সেগুলো আমরা মিলিয়ে দেখব।
বিপুলসংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কি একদলীয় স্বৈরাচারী পার্টি নাকি? আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে তো গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। প্রার্থী যত বেশি হবে তত অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা বিকশিত হবে। এতে বহুমতের প্রকাশ ঘটবে। গণতন্ত্রের ভিত আরও শক্তিশালী হবে। এই মুহূর্তে বহু প্রার্থী নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। কারণ আমরা প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। সবাই প্রার্থী হতে পারবে। দেওয়া-না দেওয়া সেটা দলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু চাওয়ার অধিকার থেকে আমরা তাদের বঞ্চিত করতে পারি না। মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, সেই সিদ্ধান্ত কারা মানছে, কারা মানছে না সেটাই হলো দেখার বিষয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় সম্মেলনের আগেই যেসব সংগঠন সম্মেলন করেনি তাদের সম্মেলন হয়ে যাবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কত মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ওপেন করে দিয়েছি, কত হয় এখন তো বলতে পারছি না। কালকে (বুধবার) পর্যন্ত আমি যতটুকু জানি পৌনে তিন কোটি টাকার ফরম বিক্রি হয়েছে। মনোনয়ন বোর্ডের বসার আগেই পুরো হিসাব আপনাদের জানাব। বিক্রি ও জমা দেওয়ার সময় আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তবে হয়ত মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যদি সময় বেশি লাগে সে বিষয়ে আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।