নিকাব পরায় মেয়ের সমালোচনা, জবাব দিলেন রহমান

অস্কারজয়ী সংগীত শিল্পী এআর রহমানের মেয়ে খাতিজা শাড়ির সঙ্গে নিকাব দিয়ে মুখ ঢেকে মঞ্চে ওঠায় কয়েক জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী সমালোচনায় মেতে ওঠেন। বিষয়টি বেশ আলোচিত হলে ঠান্ডা মাথায় জবাব দিয়ে দিয়েছেন ‘মা তুঝে সালাম’, ‘জয় হো’র মতো গানের স্রষ্টা।

১৯৮৮ সালে পরিবারসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা রহমানের জবাবটা বেশ কৌশলী। বিশদ কিছু বলতে যাননি। একটি ছবি শেয়ার করে কয়েক শব্দে এভাবে লিখেছেন, ‘আমার জীবনের মহামূল্যবান নারী খাতিজা, রেহেমা এবং সাইরা#ফ্রিডমটুচুজ।’

‘ফ্রিডমটুচুজ’ শব্দের মধ্যে দিয়ে রহমান আসলে তার জবাবটা দিয়েছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, কে কী পারবে, সেটা তার ব্যক্তি স্বাধীনতার ব্যাপার।

রহমানের শেয়ার করা ছবিটি তোলা হয় মুকেশ আম্বানীর স্ত্রী নীতার সঙ্গে। সেখানেও তার মেয়ে খাতিজা বোরকা পরা। আরেক মেয়ে রেহমা এবং স্ত্রী সাইরা স্বাভাবিক ড্রেস পরা।

এরআগে খাতিজাও সমালোচনার প্রতিবাদ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে অনুষ্ঠানে যেতে কেউ তাকে বোরকা পরার জন্য জোর করেনি। তিনি নিজের ইচ্ছায় পরেছেন।

‘বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই আমার পোশাক নির্বাচন আমি নিজেই করি। আমার পরিবার থেকে কিছু চাপিয়ে দেয়া হয় না। যে পর্দা আমি করেছি তা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানের। আমি একজন প্রাপ্তবয়স্কা। আমি জানি আমার কী বেছে নিতে হবে।’

ঘটনার সূত্রপাত চলতি সপ্তাহের শুরুতে। ‘স্লামডগ মিলিওনিয়ার’ ছবির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুম্বাইয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাবার সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলতে মঞ্চে ওঠেন রহমানকন্যা খাতিজা। একটি ছবিতে দেখা যায়, শাড়ির উপর নিকাব পরেছেন তিনি। সেভাবেই মাইক্রোফোন হাতে কথা বলছেন।

এই ছবি শেয়ার করে একজন লিখেছেন, ‘তার মিউজিকের জন্য গর্বিত। কিন্তু কন্যাকে নিয়ে তার মধ্যযুগীয় অবস্থানের কারণে লজ্জিত। শাড়ি এবং পর্দা (নিকাব) একসঙ্গে যেতে পারে না। দুটি জিনিস দুটি বিপরীত চিন্তাভাবনা সমর্থন করে। শাড়ি নারীত্বের প্রতীক। আর বোরকা তাকে দশ ফুট নিচে নামিয়ে দেয়।’

এই মন্তব্যের কাউন্টারে ভিন্ন মন্তব্যও আসে। কার্তিক নগরাঞ্জন নামের একজন লিখেছেন, ‘নিজের ধর্ম পালন এবং অনুসরণ কখনো পাপ হতে পারে না। রহমানকন্যার এই সিদ্ধান্ত নিজের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে। যা ভালো লাগবে সেটাই পরা উচিত।’