এক পা নেই। চলাফেরায় কষ্ট হয়, তবুও দমে যাননি। কৃত্রিম পায়ে ভর করেই ধীরে ধীরে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সমির উদ্দিন। সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চান তিনি, কাজ করতে চান তার মতো অসহায়দের জন্য।
সমিরের বাবা সাইফুল ইসলাম পেশায় দিনমজুর। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় হতদরিদ্র পরিবারের এই ছেলেটির ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক। তাই পড়ালেখার খরচ জোগাতে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় তার স্বাভাবিক জীবনে ছেদ পড়ে। ২০১২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অন্যের জমিতে কাজ করতে গিয়ে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে একটি পা হারান তিনি। এতে থমকে যেতে বসেছিল সমিরের পৃথিবী। অসহায় হয়ে পড়ে তার বাবা-মা।
কিন্তু তাই বলে থেমে থাকেনি সমিরের পথচলা। কিছুদিনের মধ্যেই ক্রাচে ভর দিয়ে নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় আবার মনোযোগী হলেন তিনি। ২০১৬ সালে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এই সংগ্রামী পথচলাকে একটু সহজ করতে তিন বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা সমিরের জন্য কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে।
দেশ রূপান্তরকে সমির বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। তাই সেটি প্রমাণের লক্ষ্যে কৃত্রিম পা পাওয়ার পর থেকে আমি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে উঠি। কঠোর পরিশ্রম করে রাবির আইন বিভাগে জায়গা করে নিই। এখন স্বপ্ন দেখি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হয়ে বিচারক হিসেবে কাজ করার।’ শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।