পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তির সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
চুক্তির আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির সমর্থক জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পহেলা চুক্তি কী? মাথা ধোলাই করা। আমাদের ১৮ শ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ভারতে ট্রেনিং দেওয়া হবে। যেখানে গরু রাখার জন্য মানুষ হত্যা করে, মানুষের অধিকার নাই, সে দেশে কী শেখার আছে?’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘খালেদা জিয়ার এখনই মুক্তি চাই’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
ভারতের সঙ্গে শুক্রবার হওয়া চুক্তিকে ‘অসম’ দাবি করে তিনি তিস্তা চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ার সমালোচনাও করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আকাশে অশনিসংকেত আছে। একটি আমি আগেই বলেছি ভারতীয় চক্রান্তের, দ্বিতীয়টা হলো রোহিঙ্গা। আমাদের দেশের সরকার যে জঙ্গির ভয় করছেন, এই যে রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীর জীবনের কোনো আশা নেই, তারাই উর্বর ক্ষেত্র। তাদের ভাসানচরে পাঠিয়ে জঙ্গি ঠেকানো যাবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ও দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনি অবশ্যই কথা বলবেন আপনার দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তবে সেখানে আপনার সিনিয়র নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলেন, তাদের মাধ্যমে এসব মিটিং করেন। এ রকম রিজভীর (রুহুল কবির রিজভী) মাধ্যমে মিটিং ডাইকেন না। সরাসরি মিটিং ডাকেন। মোশাররফ-মওদুদ এদের সামনে রেখে, হাফিজকে। তাহলেই দেখবেন আন্দোলনটা গড়ে উঠবে’।
তারেক রহমানকে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ অভিহিত করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আপনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ধৈর্য ধরতে হয়, তাকে তাড়াহুড়া করলে হয় না। আপনার ওপরে অনেকেই চেয়ে আছেন। অনুগ্রহ করে তাড়াহুড়া কইরেন না’।
বিএনপির নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আগামী ১৭ দিন রাস্তায় থাকেন, প্রত্যেকদিন মিছিল করেন, প্রত্যেকদিন ট্রাক মিছিল করেন। ঢাকা শহরে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যেন আপনাদের চেহারা দেখা যায়। ওই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট ও প্রেস ক্লাবের ভেতরে গরম-গরম হাতি-ঘোড়া আর মাইরেন না’।
তিনি বলেন, আপনাদের রাস্তায় থাকতে হবে। আমি খুশি হতাম আজকে যদি বিএনপির এক হাজার মহিলা এখান দুই ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতেন, এক হাজার মহিলা ৫০টা ট্রাক নিয়ে ঢাকা শহরে প্রদক্ষিণ করে একটা স্লোগান দিতেন- গণতন্ত্র চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।
সংগঠনের মহাসচিব আ ফ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলামের শিশির, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহজাহান সম্রাট, মিয়া মো. আনোয়ার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা সোয়েব আহমেদ বক্তব্য রাখেন।