পরোটা, পাউরুটি, পুরিসহ বিভিন্ন খাবারে মেশান হচ্ছে সারের গুঁড়া। যার ফলে এসব খাবার নরম হয় ও ফুলে ওঠে। অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং ইউরিয়া সার একসঙ্গে মিশিয়ে এ গুঁড়া তৈরি হচ্ছে। এই গুঁড়াকে স্থানীয়ভাবে ‘সাল্টু’ বলা হয়।।
ফসলের উর্বরতা ও পুষ্টিতে ব্যবহৃত সারের মূল যৌগ অ্যামোনিয়া হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে তৈরি এক যৌগ। অ্যামোনিয়ার ব্যাপক ব্যবহার বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাসহ খোদ রাজধানীতেই খাবারে সাল্টু মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সাল্টুর বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে। খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন তার ফেসবুকে এসব জানিয়েছেন।
তিনি সোমবার দেওয়ার তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ঢাকার মোহাম্মদপুর বাজার থেকে ২০০ টাকা দিয়ে এক কেজি সাল্টু কেনা হলো। পলিথিনের প্যাকেট খুলে সামান্য গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করলাম। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব শুরু হয়ে গেল। এটা কী জিনিস খাবারে মেশানো হচ্ছে!!! কী খাচ্ছি আমরা!!’
এ ছাড়া তিনি লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে এক স্ট্যাটাসে দেখলাম প্রচুর পরিমাণে শিল্প লবণ (সোডিয়াম সালফেট) আমদানি হচ্ছে। কিন্তু শিল্পে ব্যবহার না হয়ে তা খাবার লবণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। শিল্প লবণ ডাইং ফ্যাক্টরি, সাবান এবং কাগজের পাল্প শিল্পে ব্যবহার হয়’।
‘এটা নিশ্চিত, আমাদের বাচ্চাদের কারো কিডনি ঠিক থাকবে না’।
এর আগের এক স্ট্যাটাসে রংপুরের পীরগাছায় তার গ্রামের বাজার থেকে কেনা খাবারে ‘সাল্টু’ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বড়া, জিলাপি, পুরিতেও দেওয়া হচ্ছে সাল্টু।
এ ছাড়া আকরামুল হক নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী জানান, ‘নির্বাচনী কাজে কুড়িগ্রাম গিয়েছিলাম। রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী বাজারে ভোরে নাশতা করতে গিয়ে হোটেলের পরোটা এত নরম কেন জিজ্ঞেস করায় হোটেলের কর্মচারীর উত্তর পরোটায় সাল্টু আছে’।
‘সাল্টু কী জিজ্ঞেস করায় সামনে ভাণ্ড আনতেই দেখি ভাণ্ডের ভেতর রয়েছে অ্যামোনিয়া সারের গুঁড়ো'।
'ভাণ্ডের মুখ খুলে সামনে ধরে শ্বাস নিতে দেখি দমবন্ধ হয়ে আসছে। বালিয়ামারী বাজারের তিন হোটেলেই সাল্টু নামের অ্যামোনিয়া সারের ব্যবহার দেখেছি’।
‘কুড়িগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত আসতে নানা হোটেলে চা পানের জন্য নেমেছি, সবখানেই সাল্টুর ব্যবহার সম্পর্কে হোটেল মালিকরা অবগত। কেউ স্বীকার করছেন, কেউ করছে না’।
‘ঢাকায় ফিরে নানা হোটেলে নরম পরোটা ও তন্দুর রুটির খোঁজে নেমে দেখি কেউ সাল্টুর বিষয় স্বীকার করছে না’।
‘অতঃপর মোহাম্মদপুরে দুই হোটেলের দুই কর্মচারী ইঙ্গিতে বিষয়টি স্বীকার করলেন’।
‘তাদের ভাষ্য, পরোটা নরম চান কাস্টমাররা, তাই এই সাল্টু মিশ্রণের ব্যবহার চলছে’।