হুইল চেয়ারে সংসদ অধিবেশনে এরশাদের ১৫ মিনিট

একাদশ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি (জাপা)  চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রথমবারের মতো সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। তিনি তার আসনে বসে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে সালাম জানান। এ সময় তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তবে তিনি কোনো কথা বলেননি।

১৫ মিনিট অধিবেশন কক্ষে থাকার পর আবার চলে যান।

রবিবার হুইল চেয়ারে করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তিনি সংসদ ভবনে পৌঁছান। এ সময় জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার সহযোগিতায় গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসে লিফটে সরাসরি বিরোধী দলের লবিতে যান তিনি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়। এর ১৫ মিনিট পর হুইল চেয়ারে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন এরশাদ। জিএম কাদের ও রাঙ্গা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হুইল চেয়ার থেকে নামিয়ে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার জন্য সংরক্ষিত আসনে বসিয়ে দিতে দেখা যায়।

এরশাদ সবাইকে হাত তুলে সালাম জানালে সামনের সামনের সারিতে থাকা আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ কয়েকজন হাত তুলে এরশাদকে সালাম জানান।

১৫ মিনিট পর বিরোধী দলীয় নেতা হুইল চেয়ারে বসেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। অধিবেশন কক্ষ থেকে শুরু করে গাড়িতে ওঠা পর্যন্ত পেছন থেকে হুইল চেয়ার চালিয়ে নিয়ে যান মসিউর রহমান রাঙ্গা।

এ সময় জিএম কাদের, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, নাসরিন জাহান রত্মা, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এ সময় এরশাদের সঙ্গে ছিলেন।

তবে রোববার জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ সংসদে যাননি। সংসদে এরশাদের বাম পাশের আসনটিতেই বসেন রওশন। এরশাদ যতক্ষণ অধিবেশন কক্ষে ছিলেন ততক্ষণই রওশনের চেয়ারে বসে এরশাদের সঙ্গে কথা বলেন জিএম কাদের। তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এসে একবার এরশাদের পাশে বসে তার কুশল জানতে চান।

৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলেও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং গত ৪ ফেব্রুয়াারি দেশে ফেরার পরও তেমন সুস্থ না থাকায় এত দিন সংসদে যেতে পারেননি এরশাদ।