পাবজি গেমের নেশা এমনভাবে পেয়ে বসলো, শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন এক তরুণ। এমনকী বাড়িতে ফেলে গেলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও। মালয়েশিয়ার এক শহরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
জানা যায়, পাবজি চ্যালেঞ্জ শেষ করতে সাংসারিক কাজ তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর উপরে ঘরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর নানা ধরনের আবদার শুনতেও তিনি ছিলেন বিরক্ত। শেষমেস গেমের আসক্তি তাকে ঘর ত্যাগ করতে বাধ্য করলো।
এ বিষয়ে তার স্ত্রী ফেসবুকে পোস্ট দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। মালশিয় ভাষায় তার স্ত্রী লিখেন, ‘গত একমাস ধরে বাড়ি ফেরেননি আমার স্বামী। আমরা সকলেই ভীষণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
স্বামীর পাবজি খেলার কারণে তাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই অন্তঃসত্ত্বা নারী বলেন, ‘আগে পর্যন্ত সবকিছু ঠিক ছিল। চার বছর আগ থেকে অনলাইন গেম শুরু করেছিলেন আমার স্বামী। তারপর থেকে সংসারের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়েছে। কোনও কাজই করতে চাইতেন না তিনি। এমনকি সাংসারিক দায়িত্ব পর্যন্ত পালন করতেন না। কাজেও যেতে চাইতেন না তিনি। এতটাই পাবজির প্রতি আসক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল তার।’
এদিকে এ নারীর ফেসবুক পোস্ট দেখার পর স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ নিখোঁজ ডায়রি করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়েই চলছে পাবজি উম্মাদনা। বিশ্বের কোটি কোটি শিশু, কিশোর, তরুণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে এ অনলাইন গেম।
তবে পাবজি খেলা মানুষের মধ্যে হিংস্র ও বিধ্বংসী মনোভাব সেই সঙ্গে সাইবার-অপরাধকে উস্কে দিচ্ছে, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কয়েকদিন আগে ভারতের মুম্বাইয়ে এক কিশোর পাবজি খেলার জন্য স্মার্টফোন কেনার বায়না করেছিল। কিন্তু পরিবার কিনে দিতে রাজি না হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে।
প্রসঙ্গত, চীনের টেনসেন্ট কোম্পানি পাবজি নামে এ গেম তৈরি করে। গেমটিতে একশ’ জন খেলোয়াড় পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধে নামে। সেখানে একমাত্র জীবিতই বিজয়ী। এককভাবে ছাড়াও দলীয়ভাবে এ গেম খেলা যায়।
চীনের বাইরেই এ গেমটি ২০ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৩ কোটি মানুষ এ গেমে সক্রিয় থাকে।