নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের গুজিরকোনা গ্রামে ২৫ বছর বয়সী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রোববার রাতে ভিকটিম বাদী হয়ে ওই গ্রামের আবদুল গনি মন্টু, শাহ আলম ও কালা মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সোমবার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান জানান, দুর্গাপুরের গুজিরকোণা গ্রামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারীকে একই গ্রামের আবদুল গনি মন্টু গত বছরের আগস্ট মাসের দিকে এক রাতে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ধর্ষণ করে। এর পর আবদুল গনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায়শই ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতো। এরই মধ্যে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। মেয়েটির পরিবার ধর্ষক আবদুল গনিকে বিয়ের কথা বলে। আবদুল গনি বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করে। সে গ্রামের শাহ আলম ও কালা মিয়াকে নিয়ে প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার কথা বলে এবং নানা ভয়ভীতি দেখায়।
রোববার রাতে প্রতিবন্ধী ওই নারী বাদী হয়ে আবদুল গনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেছেন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ মামলার কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দোকানদার বলেন, মন্টু মিয়া বাকলজোড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা, তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, সেই সঙ্গে তাঁকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।