যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের প্রার্থী মো. আপেল মাহমুদ ও তার সহযোগী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার সাদাত সম্রাটের বিরুদ্ধে।

বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জহিরুল ইসলাম ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩০/৩২ জনকে আসামি করে বুধবার রাতে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা।

জহিরুল ইসলাম বলেন, থানা মামলা না নেয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অপরদিকে জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা মটর-মালিক সমিতির নেতা ও প্রার্থী আপেল মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছেন। 

তিনি আরো জানান, বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই চলছিল। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে আসি। এ সময় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের নেতৃত্বে একদল যুবক তাকে ও তার সমর্থক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা জহিরুলের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। হামলাকারীরা তাদের বেদম মারপিট করে ও তাদের পাঞ্জাবি, শার্ট ছিঁড়ে ফেলে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষ কিছুক্ষণের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করে। আধা ঘণ্টা পর এ অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

পঞ্চগড় জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রমণকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করা হবে।

তবে অভিযুক্ত আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, হামলাকারীরা দলের কেউ না, আমি তাদের কাউকে চিনি না এবং আমার সামনে কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

পঞ্চগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু আককাস আহমেদ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনের ভোট ২৮ ফেব্রুয়ারি। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। নির্বাচনে ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাট, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক এমরান আল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মির্জা সারোয়ার হোসেন, আপেল মাহমুদ, বিসিক নগর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলদার রহমান ও মরহুম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমানুল্লাহ বাচ্চুর স্ত্রী জহুরা প্রধান।

২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা পরিষদের নির্বাচনে ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আমানুল্লাহ বাচ্চু জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ৯ জানুয়ারি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।