আদমজী ইপিজেডের ২৪০০ শ্রমিককে পুলিশ দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

বিনা বেতনে ১৫০ জন  শ্রমিক  ছাঁটাই ও ২৪০০ শ্রমিকের  ওপর  নির্যাতনের প্রতিবাদে ও মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জের অনন্ত গ্রুপের আদমজী ইপিজেড গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকেরা।

বৃহস্পতিবার  জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করে তারা।  

মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক  বলেন,  বর্তমানে সারা দেশে শ্রমিকদের যে ভাবে নির্যাতন, অত্যাচার এবং অন্যায় ভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে।  আপনারা তাদের মুখ থেকে শুনছেন, দেখতে পাচ্ছেন। মাসের পর মাস বেতন আটকে রেখে যারা অন্যায় অবিচার করছে আমরা তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই। এই সব কাজ আসলে কোম্পানির মালিকদের চক্রান্ত। বেতন বাড়ানোর ভয়ে  পুরোনোদের ছাঁটাই করে কম খরচে নতুন শ্রমিক নেওয়া এই চক্রান্ত মানুষ এখন বোঝে।

তিনি এ সময় নির্যাতিত শ্রমিকদের পাওনা বেতন ও তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুরোধ জানান।

মানববন্ধনে ঝর্না আক্তার নামের একজন কর্মী অ‌ভিযোগ করে বলেন, আ‌মি অ‌ফি‌সে যাওয়ার প‌রে স্যা‌রেরা দরজা আটক করে আমার আই‌ডি কার্ড কেড়ে নেয়। তার পরে এক স্যার বলেন এ‌দের‌কে মার প‌রে কি হয় তা আ‌মি দেখ‌বো । তি‌নি ব‌লেন, আমার চু‌লের মু‌ঠি ধ‌রে ফ্লো‌রে ফে‌লে মে‌রে‌ছে । আ‌মি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

নির্যাতিত নারী কর্মী নাছিমা আক্তার  বলেন,  আমাদের কোম্পানির জিএম, আরএম সহ স্যারেরা পুলিশের সামনে জোর করে আমাদের থেকে রিজাইন লেটারে স্বাক্ষর নিতে চাইলে  আমরা রাজি না হওয়ায়  আমাদের এডমিন মোস্তফা স্যার, পুলিশ ও অন্যান্যরা  মিলে আমাদের চুলেরমুঠি ধরে  মারধর করে।  এ সময় জিএম স্যার নিজের হাতে আমার কবজি ধরে আমাকে পিটিয়েছে।

নারী শ্র‌মিক শম্পা  বলেন,  আমাদের কোন নোটিশ দেওয়া হয় নাই। হঠাৎ রুমের ভেতরে জোর করে  রিজাইন লেটার হাতে ধরিয়ে দেয় কিন্তু আমরা নেই নাই। এরপর তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়।  যদি আমাদের অফিসের নিয়মতান্ত্রিকভাবে পাওনা বেতন পরিশোধ করে এবং অন্যান্য নিয়ম মেনে বহিষ্কার করত তাহলে আমরা মেনে নিতাম।