আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত সালমা বেগম নামে এক গর্ভবতী নারীকে রেখে পালিয়েছেন তার স্বামী। চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য না থাকার তার স্বামী রুবেল মিয়া পালিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান সালমা।
সালমা জানান, তার বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়। গত বৃহস্পতিবার রান্নার সময় তার শরীরের ৩০ ভাগ আগুনে পুড়ে যায়।
তিনি জানান, এরপর তাকে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসার প্রথম পাঁচ দিনে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা খরচ চালানো আর সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে মৃত্যুশয্যায় স্ত্রীকে রেখেই পালিয়ে গেছেন রুবেল মিয়া।
চিকিৎসকরা বলেন, সালমাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং এর খরচও অনেক।
যোগাযোগ করা হলে রুবেল মিয়া বলেন, আমার নিজের কোনো জমি নেই। আমি অন্যের জমিতে কাজ করি। আমার আরো দুটি মেয়ে আছে।
এ অবস্থায় দেশবাসীর কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
সালমা অশ্রুজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক বছর আগে তার বাবা-মাকে তিনি হারিয়েছেন। তার দরিদ্র চাচা তাকে বড় করেন। এখন এমন কেউ নেই যার কাছে তিনি সাহায্য চাইবেন।
সালমা মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালিকের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।
কোনো ব্যাক্তি যদি সালমাকে সাহায্য করতে চান তাহলে স্বামী রুবেল মিয়ার নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন, মোবা: ০১৭৬৩৬৬৯৬২১।
এ ব্যাপারে ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, রুবেলে পক্ষে তার স্ত্রীর চিকিৎসা সম্ভব নয়। আমি কিছু সাহায্য করব। কিন্তু কোনো মেডিকেল যদি চিকিৎসার দায়িত্ব নিতো তাহলে সবচেয়ে ভাল হতো। আমি সালমার চিকিৎসার জন্য লিখিতভাবে জেলা প্রশাসনকে জানাব।