জামায়াতের সব নেতাই ৭১ নিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের প্রস্তাব 'প্রত্যাখ্যান করেছেন'

জামায়াতে ইসলামীর সদ্য পদত্যাগী নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ে তার প্রস্তাব সব জামায়াত নেতাই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শুক্রবার যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।

আব্দুর রাজ্জাক তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজও দলের (জামায়াতে ইসলামী) নেতৃবৃন্দ ৭১-এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেনি। এমনকি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেনি’।

 

তিনি আরো উল্লেখ করেন,  ‘সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ উল্লেখ করে যে যে সময় আমি বিষয়টি দলের শীর্ষ সংস্থা ও নেতৃত্বের কাছে উত্থাপন করেছি তার কয়েকটির বিবরণ দিতে চাই’- 
‘ক) ২০০১ এর অক্টোবর মাসে জামায়াতের তৎকালীন আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। বিজয় দিবস উদযাপনের আগেই ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমি জোরালো পরামর্শ দিয়েছিলাম। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বক্তব্যের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি’।

‘খ) ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের বৈঠকে আবারো ৭১ নিয়ে বক্তব্য প্রদানের পক্ষে আমি জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করি। আমার সেদিনের বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল’।

‘গ) ২০০৭-২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় জামায়াতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিন্ন মাত্রা পায়। তখনো ৭১ প্রসঙ্গে বক্তব্য প্রদানের জন্য জামায়াতকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি’।

‘ঘ) আমি ২০১১ সালে মজলিশে শুরার সর্বশেষ প্রকাশ্য অধিবেশনে বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করি। দলের নেতৃত্ব প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতি আমি বিশেষ আরবান জানাই। আমার সেই প্রস্তাব শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একাংশের অবহেলার নিকট পরাজিত হয়’।

‘ঙ) ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ আপনাকে পাঠানো ১৯ পৃষ্ঠার চিঠিতে ৭১ প্রসঙ্গে বক্তব্য প্রদানের জন্য আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম। তাতে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে নতুন আঙ্গিকে রাজনীতি শুরু করার আহ্বানও জানিয়েছিলাম’।
‘চ) ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে আপনি আমির নির্বাচিত হওয়ার অব্যবহিত পর এ বিষয়ে আমার মতামত চাওয়া হয়েছিল। আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া সংক্রান্ত একটি খসড়া বক্তব্য পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি’।

‘ছ) সবশেষে, ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর জানুয়ারি মাসে জামায়াতের করণীয় সম্পর্কে আমার মতামত চাওয়া হয়। আমি যুদ্ধকালীন জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেই। অন্য বিকল্প না পেয়ে বলেছিলাম, জামায়াত বিলুপ্তি করে দিন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমার তিন দশকের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে’।