একজনের কাছেই সিরিজ হার

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের। দুই ম্যাচেই ৮ উইকেটের হার। এক মার্টিন গাপটিলের কাছেই টানা হার জুটল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাদের। টানা সেঞ্চুরি করেছেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই ব্যাটসম্যান। ন্যাপিয়ারের পর ক্রাইস্টচার্চে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে হেরেছে বাংলাদেশ। ডুনেডিনের শেষ ওয়ানডেটি হবে শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয়টিতেও আগে ব্যাট করে সফরকারীরা। বরাবরের মতো টপঅর্ডারদের ব্যর্থতায় দলীয় সংগ্রহ ২২৬ এ আটকে যায়। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মোহাম্মদ মিঠুন। ক্রাইস্টচার্চে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৫৭ রান। সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৩৬.১ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ২২৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। গাপটিল ১১৮ রান করেন। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তার ১৪৩ রানের জুটি দলের জয় সহজ করে। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা ১২ ম্যাচে হারল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ১১৬ বলে ১১৭ করেছিলেন গাপটিল। এবার ৮৮ বলে ১১৮। যেন ন্যাপিয়ারে যেখানে থেমেছিলেন সেখান থেকেই শুরু। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দুটি চার ও ষষ্ঠ ওভারে দুটি ছয় ম্যাচে গাপটিলের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেয়। তিনি দ্রুত শেষ করতে চান। ৩৩ বলে করেন হাফসেঞ্চুরি, আর সেঞ্চুরি ৭৬ বল খেলে। ২৯তম ওভারে আউট হওয়ার সময় নিউজিল্যান্ডকে জয় থেকে মাত্র ৩৯ রান দূরে রেখে যান গাপটিল। তার ১৬তম সেঞ্চুরির ইনিংসে ১৪টি চার ও ৪টি ছয় ছিল। ১২৮ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন উইলিয়ামসন। গাপটিলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড মিডলঅর্ডারদের কিছুই করতে হয়নি। আউট হওয়া দুই কিউই ব্যাটসম্যানকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। 

অভিষেকে সেঞ্চুরি দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করা গাপটিল আগেও টানা সেঞ্চুরি করেছেন দুবার। প্রথম ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস ও সাউদাম্পটনে। আর দ্বিতীয়বার ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সেবারও প্রথমটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে। আর দ্বিতীয়টি তার ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ২৩৭। ওয়েলিংটনের ওই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড গড়েন গাপটিল। যা ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসও।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ইনিংসে ছিল আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। দলের স্কোর তিন অংকে যাওয়ার আগেই মূল ব্যাটসম্যানরা ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। শুরুতে সাবধানী খেলেও বিপদ দূর করতে পারেননি দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাশ। দলকে বিপদে ঠেলে দুজনই বিদায় নেন দ্রুত। গত ম্যাচে ইনিংসের শুরু পাওয়া সৌম্য সরকার এই ম্যাচেও ভালো সূচনা করেন। কিন্তু ২৩ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ভালো শুরুটা টানতে পারেননি। ক্যারিয়ারের ২০০তম ওয়ানডেতে নামা মুশফিকুর রহিমের দিনটিও স্মরণীয় হলো না ৩৬ বলে ২৪ রান করে ফিরে যাওয়ায়। অপর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহও ৭ রান করে ফিরেন।

৯৩ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে আগের মতো টেনে তোলার দায়িত্ব নেন মিঠুন। সাব্বির রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই এগোচ্ছিলেন। তবে ৩০তম ওভারে রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন ৪৩ রানে থাকা মিঠুন। তাতে বাংলাদেশের রানের গতি কমে যায়। ৩৩ ওভারে টড অ্যাস্টলকে মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মেরে ৬৫ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিঠুন। ইনজুরির কারণে ছুটতে পারছিলেন না। তাই যতটা সম্ভব চার-ছয় মারার চেষ্টায় ছিলেন। যে কারণে ইনিংসটিও লম্বা হয়নি তার। ৩৫তম ওভারে টড অ্যাস্টলের কুইকার ডিলেভারিতে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে দলীয় ১৬৮ রানে বোল্ড হন। বল পিচ করেই স্কিড করে। শেষ হয় মিঠুন-সাব্বিরের দলীয় সর্বোচ্চ ৭৫ রানের জুটি। মিঠুনের বিদায়ের পর রানে ফেরা সাব্বিরের ওপর দায়িত্ব পড়ে দলকে টানার। কিন্তু বাংলাদেশের রান দুইশো পার হতেই ফিরে যান সাব্বির। ৬৫ বলে ৭ চারে ৪৩ রানের ইনিংস তার। বাকি ওভারগুলোতে লোয়ারঅর্ডাররা কোনোক্রমে দলকে সম্মানজনক স্কোরে নিয়ে যান।