মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সিরিয়া থেকে সেনা সরাবে যুক্তরাষ্ট্র

আকস্মিকভাবে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ট আলোচনা চালাবে মার্কিন প্রশাসন।

রয়টার্স জানায়, মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা না করে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে রোববার সিরিয়ার মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষ জানায়।

মিউনিক সিকিউরিটি কনফারেন্সে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জেমস ফ্রাঙ্কলিন জেফরি বলেন, “আমরা মিত্রদের বারবার বলে আসছি, আকস্মিকভাবে কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার হবে না। পর্যায়ক্রমে এটি কার্যকর হবে।”

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সেখান থেকে আইএসকে হটাতে তারা স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে। সেখানে মার্কিন মিত্র শক্তি হিসেবে কাজ করছে, সিরিয়ার কুর্দি এবং আরব যোদ্ধাদের সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স।

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় আপত্তি তোলে মার্কিন মিত্ররা। সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার পর তাদের অবস্থান কী হবে এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কুর্দিরা। তবে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুলুসি আকার এবং জেফরির মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্যও দেখা গেছে।

সম্মেলনে আকার বলেন, “আমরা সিরিয়ার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্তকে সম্মান করি। কিন্তু এটি এখন সীমান্ত এবং তুরস্কের জনগণের নিরাপত্তারও ইস্যু।”

গত ১৯ ডিসেম্বর ‘আইএস চরমভাবে পরাজিত হয়েছে’ দাবি করে ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার সমালোচনা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্ত মার্কিন নীতিনির্ধারক পদত্যাগ করেন।

জ্যেষ্ঠ অনেক রিপাবলিকান নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলে আইএস’র পুনরুত্থান হতে পারে। সিএনএন বলছে, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাকেন্দ্রিক শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে ইরান ও অন্যান্য দেশ।