ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান, ভোটকেন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবনে করা এবং হলে হলে গেস্টরুম-গণরুমে নির্যাতন বন্ধসহ ৬ দফা দাবি নিয়ে আজ উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে বাম ছাত্রসংগঠনের দুই জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ এবং ‘সা¤্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’।
গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে নির্বাচনের দিকে থাকিয়ে আছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যাম্পাস জুড়ে দখলদারিত্বের যে অচলায়তন তৈরি হয়েছে তা ভাঙার সোপান ডাকসু নির্বাচন।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সবার আগে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দরকার। ইতোমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে আমাদের ৬ দফা দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব দাবি উপেক্ষা করছে। তাই আমাদের আগামীকাল (আজ) পূর্বনির্ধারিত উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি বহাল থাকবে। দুপুর ১২টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে সেখানে যাব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ, বাংলাদেশ ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিপুল চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি পারভেজ লেলিন ও ছাত্র গণমঞ্চের সভাপতি আফনান আক্তার।
তাদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাস ও হলগুলোকে সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত করে সংগঠনগুলোর সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। গেস্টরুম-গণরুমে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সকল নির্যাতনের বিচার করতে হবে। প্রয়োজন ও মেধার ভিত্তিতে প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে প্রথম বর্ষ থেকে হলে বৈধ সিটের ব্যবস্থা করতে হবে। ডাকসু ও হল সংসদ ফি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। হলে অবস্থানরত ও সংযুক্ত সব শিক্ষার্থীর ভোটাধিকার সুরক্ষায় ভোটকেন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবনসমূহে স্থাপন করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে প্রচার, নির্বাচনী সমাবেশে জাতীয় নেতাদের অংশগ্রহণের বাধাসহ আচরণবিধির অগণতান্ত্রিক বিধানসমূহ বাতিল করতে হবে।