নারায়ণগঞ্জে মসজিদের কমিটি ও মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসাইন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে । কামরুল হাসান মুন্না বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।
সংঘর্ষের সময় উভয় গ্রুপের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা করে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয় । সংঘর্ষের পর কাউন্সিলর কবির হোসাইন ও কামরুল হাসান মুন্নার পক্ষ থেকে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়।
সদর মডেল থানা-পুলিশ সোমবার ভোরে নিতাইগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুন্নাসহ তার তিন সমর্থককে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসাইনসহ গ্রেপ্তার করা হয় তার সতেরো সমর্থককে।
নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় মুন্না ও তার সমর্থকদের নারী সেলে রাখা হয় এবং কবির হোসাইন ও তার সমর্থকদের রাখা হয় পুরুষ সেলে। আটককৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান কাউন্সিলর কবির ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মুন্নার মধ্যে বিরোধ চলছিল। কামরুল হাসান মুন্না দীর্ঘ ৬ বছর ধরে স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে মসজিদের সকল কাজ কর্ম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানান তারা। মুন্নার কাছে মুসল্লিরা একাধিক বার মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলেও তিনি কোন হিসাব দেননি।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কাউন্সিলর কবির নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি করে মসজিদের সকল আয় ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে করার জন্য আহ্বান জানান।পরে রোববার এশার নামাজের পর মসজিতে এ নিয়ে এলাকাবাসীসহ কাউন্সিল কবির ও মুন্না উভয় পক্ষ বৈঠকে বসেন।
সেখানে মুন্নার কাছে আয় ব্যয়ের হিসাব চাইলে মুন্নার লোকজন কাউন্সিলর কবিরের ভাগনে টিটুকে মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণতি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কবির হোসাইনের দায়ের করা মামলায় কামরুল হাসান মুন্নার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় মুন্না ধারালো ছুরি দিয়ে কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে। এ মামলায় কামরুল হাসান মুন্না, রকিবুল হাসান লিয়ন, হুমায়ন কবির ও শ্যামল শীলকে আসামি করা হয়েছে।
মুন্নার দায়ের করা মামলায় কাউন্সিলর কবির, বিপু, কালা ফারুক, আমিন, ওবায়দুল্লাহ, সাহবুদ্দিন, সুজন মিয়া সহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। কবিরের বিরুদ্ধেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয় মামলায়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, রোববার মধ্যরাতে সংঘর্ষের ঘটনায় কবীর হোসাইন ও কামরুল হাসান মুন্নার পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। দুই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উভয় মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।