ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন প্রতিবেশী আবদুল ওহাব ও সামছুল হকের পরিবার। বিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠটি সবজি চাষে ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীরা খেলা ধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দীর্ঘদিন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিশুদের খেলার মাঠটি নেট দিয়ে ঘিরে ভেতরে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন । বিদ্যালয়ের পেছনের অংশ দখলে রেখেছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা । তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুল মান্নান।
এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী জানায়, কর্তৃপক্ষ যেন শিশু শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ ও বিদ্যালয়ের ভূমি পুনরুদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জানা যায়, ১৯৭৫ সালে আমিরাবাদ হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা হাজী সুলতান আহম্মদ ২৫ শতক ও হাজী জাগীর আহম্মদ ২৫ শতক মোট ৫০ শতক জমি দান করেন।
প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনের ১০ শতক জমি ছাড়া খেলার মাঠ পুকুর সহ বাকি ৪০ শতক ভূমি দখল করে সবজি চাষ করছেন দাতা সুলতান আহম্মদের নাতনি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা ও হাজী জাগীর আহম্মদের নাতি মুসা খান । মুসা খান জায়গা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের মাঠ দখলে নেন পার্শ্ববতী জায়গার মালিক আবদুল ওহাব ও সামছুল হকের পরিবার।
তিনি আরও বলেন, মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত মাঠ নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করে দেওয়া।
অভিযুক্ত মালিক আবদুল ওহাব ও সামছুল হক দখলকৃত জমি ওয়ারিশদের নিজেদের বলে দাবি করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান জানান, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ও শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহেল পারভেজ বলেন, এটি খুবেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে। ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি ভূমির জটিলতা দ্রুত নিরসন করে সমাধান করার জন্য।