সুন্দরবনে চলতি গোলপাতা আহরণ মৌসুমে তেমন সাড়া মিলছে না বাওয়ালিদের। বন বিভাগের কড়াকড়ি ও গোলপাতার চেয়ে টিনের দাম কম হওয়াতে দিন দিন এর ব্যবহার কমছে। তার পরও জীবিকার তাগিদে পুরনো পেশা টিকিয়ে রাখতে ও নিতান্তই দরিদ্র মানুষের চাহিদা মেটাতে সংশ্লিষ্ট মহাজন-বাওয়ালিরা তাদের ব্যবসা ধরে রাখতে সচেষ্ট। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান ও চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মো. শাহিন কবির জানান, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা, চাঁদপাই ও শ্যালা নামে তিনটি গোলপাতা কুপ রয়েছে। এর মধ্যে অভয়ারণ্য ঘোষিত শরণখোলা গোলপাতা কুপে তিন বছর ধরে গোলপাতা আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শরণখোলার ৯৫ ভাগ এলাকাই অভয়ারণ্য হওয়ায় সেখানে মাছ, গোলপাতাসহ সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে সরকারের পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য দুই কুপ শ্যালা ও চাঁদপাই থেকে গোলপাতা আহরণের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাওয়ালিদের পাস পারমিট দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে শুধু শ্যালা কুপের পাতা আহরণের জন্য পাস দেওয়া হচ্ছে। এ কুপের আহরণ শেষ হওয়ার পর চলতি মাসের শেষ দিকে চাঁদপাই কুপের পাস দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত শ্যালা কুপে ৪১ নৌকার পাস দেওয়া হয়েছে। যারা প্রতিদিন সেখান থেকে পাস অনুযায়ী নৌকাপ্রতি ৫০০ মণ গোলপাতা কেটে বোঝাই করছেন। বন বিভাগের হিসাব মতে, গত মৌসুমে এই দুই কুপ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মণ গোলপাতা আহরণ হয়েছিল। এবারও বন বিভাগের আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার মণেই রয়েছে।
মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম। কিন্তু নানা কারণে চলতি মৌসুমে বাওয়ালিরা বেশ দেরিতেই শুরু করেছেন গোলপাতা কাটার কাজ। মোংলা শহরের মাদ্রাসা রোডের গোলপাতা ব্যবসায়ী ইমন হোসেন, কুমারখালীর শাহজাহান ও মাকড়ঢোনের আবুল মৃধা বলেন, গোলপাতার ব্যবসার জন্য বাওয়ালিদের প্রচুর টাকা দাদন দিতে হয়। অন্যদিকে গোলপাতার চেয়ে তুলনামূলক টিনের চালে খরচ কম হওয়ায় বাওয়ালিদের আর্থিক ক্ষতির কারণে তাদের উৎসাহে ভাটা পড়ছে। ইমন জানান, এক কাউন গোলপাতার বাজারদর ছয় হাজার টাকা। এই পরিমাণ পাতা দিয়ে ঘরের যতটুকু জায়গা ছাওয়া যাবে, সেটুকু জায়গা ছাইতে টিনে খরচ পড়বে সর্বনিম্ন তিন হাজার আর ঊর্ধ্বতন চার হাজার টাকা। টিন গোলপাতার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং বছরের সব সময় পাওয়া যায়। ক্রেতারা তাই গোলপাতাবিমুখ হয়ে পড়ছেন এসব কারণে। একই কারণে বাওয়ালিদেরও সংগ্রহে আগ্রহ কমছে। দাদন নিয়েও তারা বন থেকে কেটে আনা পাতা ঠিকমতো আড়তে দেন না। এ ছাড়া বাওয়ালিরা সুন্দর-সুশৃঙ্খলভাবে পাতা না কেটে দায়সারাভাবে কাটায় সেগুলোর বাজারে তেমন চাহিদাও থাকে না।