গত দেড় মাস ধরে গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাদা রঙের একটি হনুমান। হনুমানটি ভারতের মাল বোঝাই ট্রাকে চড়ে কোনোভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হনুমানটির মুখ, কান, হাত ও পায়ের রঙ কালো। আর লেজ বেশ লম্বা। তবে হনুমানটি মানুষের ক্ষতির কোন কারণ হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
বুধবার সকালে এই হনুমানটিকে সদরের ঘাগোয়া ইউনিয়নের তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ও দুপুরে বকসীপাড়া গ্রামে শাহবাড়ী জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি বাড়িতে দেখা যায়। মঙ্গলবার বিকেলে হনুমানটিকে দেখা গেছে তালতলা গ্রামে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হনুমানটিকে দেড় মাস আগে সাঘাটা উপজেলায় প্রথম দেখা যায়। এরপর সেটি ফুলছড়ি উপজেলা হয়ে এখন সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নে অবস্থান করছে।
এর আগে গত শুক্রবার হনুমানটিকে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাটে ও রবিবার সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামে দেখা গেছে।
হনুমানটিকে দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষ গিয়ে ভিড় জমাচ্ছে। উৎসুক মানুষ হনুমানটিকে রুটি, কলা দিচ্ছে খাওয়ার জন্য। দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার খেয়েই আবার হনুমানটি লাফিয়ে গাছে ও ঘরের চালে উঠে যাচ্ছে। এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি, এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে হনুমানটি। এ সময় তার পিছু নেয় উৎসুক মানুষও।
বাগুড়িয়া গ্রামের চাকরিজীবী মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন আমাদের গ্রামে তিন দিন আগে এই হনুমানটিকে দেখা গেছে। তখন এটিকে দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষ এসে ভিড় করে। পরে হনুমানটি ঘাঘট নদী পার হয়ে উত্তর দিকে চলে গেছে। তবে হনুমানটির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সেটিকে ধরে বনে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাহলে প্রাণে বেঁচে যাবে হনুমানটি। না হলে এভাবে চলতে থাকলে কারও দ্বারা হনুমানটির ক্ষতি পারে।
মণ্ডলবাড়ি গ্রামের আজহারুল ইসলাম শাওন বলেন, সকালে হনুমানটি তালতলা গ্রামে ছিল। পরে এটি উত্তর দিকে বকসীপাড়া গ্রামে চলে যায়। এখনো হনুমানটি ভালো আছে। কেউ কোন ক্ষতি করেনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেড় মাস আগে এই হনুমানটিকে প্রথম সাঘাটায় দেখা মেলে। হনুমানটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে ধারণা করছি, এটি ভারত থেকে ট্রাকে করে মালামাল আনার সময়ই কোনোভাবে এদেশে চলে আসতে পারে।
হনুমানটিকে ধরে কোন বনে রেখে আসা যায় কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন, হনুমানটি মানুষের কোন ক্ষতি করলে না হয় কোন ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু হনুমানটি তো মানুষের কোন ক্ষতি করছে না। হনুমানটিকে বিরক্ত করার কোন দরকার নেই।
এই প্রাণীটি মানুষের কোন ক্ষতি করবে না বলে উল্লেখ করে ডা. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এ নিয়ে ঢাকা ও রংপুর চিড়িয়াখানায় আমি কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, এটি মানুষের কোন ক্ষতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটিকে ধরাও খুব সহজ হবে না।