ঢাবি ছাত্রকে মেরে ড্রেনে ফেলে দিল এক ছাত্রলীগ নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা এক ছাত্রকে মারতে মারতে ড্রেনে ফেলে দিয়ে গেলে, ছাত্রলীগেরই এক নেতা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

জানা যায়, টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং জসীমউদদীন হলের বাসিন্দা আবুল কাসেমকে বুধবার সূর্যসেন হল ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন মাঠে মারধর করে আহত অবস্থায় ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের অনুসারী ও জসীমউদদীন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান এবং তার অনুসারীদের দায়ী করা হয়েছে।

আহত আবুল কাশেমকে ড্রেন থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হাসান। এছাড়া, কাসেমকে বাঁচাতে গিয়ে জসীমউদদীন হলের ছাত্র এবং বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বিভাগের জোবায়ের, ম্যানেজমেন্ট ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মোস্তফা দাউদ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শওকত আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ও একটি মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

উদ্ধারকারী ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, একজন ছেলেকে কয়েকজন মারধর করছে দেখে দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখলাম যে, তাকে মেরে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে, তাকে সেখান থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাই।  

আবুল কাসেম জানান, অভিযুক্ত হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান ও তার অনুসারীরা আমাকে মারার জন্য খুঁজছেন জানতে পেরে গত এক সপ্তাহ ধরে ভয়ে হলে থাকতে পারছিলাম না। একদল ছাত্রলীগ কর্মী ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে আমাকে ধরার জন্য পাহারা বসানোতে, ক্লাসেও অংশ নিতে পারছিলাম না।

তিনি জানান, ঠিক কি কারণে আমাকে মারার জন্য খোঁজা হচ্ছে তা জানতে বুধবার ছাত্রলীগ নেতা ইমামের সঙ্গে কথা বলতে আসি। সূর্যসেন হল ক্যাফেটেরিয়ার সামনের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইমামসহ তার অনুসারীরা এ সময় আমাকে হঠাৎ করে মারধর শুরু করে। আমাকে বাঁচাতে এসে আরও তিনজন মারধরের শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাসেম গুরুতর আহত হলে ইমামের অনুসারীরা তাকে হলের ড্রেনে ফেলে দেয়। পরে সেখান থেকে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগ নেতা মেশকাতসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে ভর্তি করেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিমউদ্দিন হলের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই ছেলেটি কয়েক দিন আগে আমার এক জুনিয়রকে মারধর করে। তাকে আমি মারি নি। তবে তার গ্রুপের জুনিয়ররা মারতে পারে বলে স্বীকার করেন।

তবে এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।