আর সব দিনের মতো রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টার গলিতে ছিল ভয়াবহ যানজট। খোলা ছিল দোকান, মানুষের ভিড় ছিল যথারীতি। তারপরই বিকট বিস্ফোরণ, আগুনের লু হাওয়ায় তছনছ সব।
এমনটাই বলছিলেন সার্জেন্ট তৈয়েবুর রহমান তপু। নিজে বিস্ময়করভাবে বেঁচে গেলেও আগুনে পুড়ে যায় তার মোটরসাইকেলটি। সেটি খুঁজতে বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তুপের কাছে আসেন তিনি।
এসময় তিনি জানান, কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। চুড়িহাট্টা মসজিদের সামনে আসার পর তিনি দেখেন, গলিতে ভয়াবহ যানজট।
‘ভাগ্যগুণে আমি বেঁচে গেছি। ভয়াবহ এই আগুনে আমিও পড়েছিলাম। আমিও এখানে ওদের মতো মরে যেতে পারতাম।’
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুড়িহাট্টার গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের কয়েকটি ভবনে। এতে এখন পর্যন্ত সিহত হন ৭০ জন।
সোয়ারীঘাটে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে তিনি দেখেন, গলিতে ভয়াবহ যানজট। গলিতে ঠাসা মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার ও ঠেলাগাড়ি।
রাত সাড়ে ১০টার পর হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনতে পান তৈয়েবুর।
তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর আমি যেখানে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাই সেই জায়গাটা রাজ্জাক ভবন থেকে ২০-২২ ফুট দূরে। আমি বাইক থেকে পড়ে গিয়ে যদি বাইক উঠতে যেতাম, তাহলেই পুড়ে মরতাম।’
শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি খুঁজে পেয়ে সেটি দেখিয়ে তৈয়েবুর বলেন, ‘মোটরসাইকেলটি পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। আমারও একই অবস্থা হওয়ার কথা ছিল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি তখন মসজিদের সামনে। বিকট আওয়াজের পর দেখি চারদিকে আগুন। পড়ে গেলাম। কীভাবে আমি যেন মসজিদের বাঁ পাশের চাপা গলি দিয়ে দৌড় দিলাম। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখি, চুড়িহাট্টা গলির রাস্তার সব গাড়ি পুড়ছে, ভবন পুড়ছে।’
আগুন থেকে বেঁচে যাওয়ার পরই তৈয়েবুর বাসায় ফেরেননি। রাত তিনটা পর্যন্ত চুড়িহাট্টা গলিতে দাঁড়িয়ে আগুনের লেলিহান শিখা দেখেছেন।
তৈয়েবুর বললেন, ‘বিকট আওয়াজের ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে চুড়িহাট্টার গলিতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। আমি যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে ১০ হাত দূরে থাকলে দৌড়ে পার পেতাম না। সঙ্গে সঙ্গে আগুনে পুড়ে আমি ওদের মতো লাশ হয়ে পড়ে থাকতাম।’