ছোটবোনের বিয়ের উচ্ছ্বাস পুড়ে গেল ভয়ংকর আগুনে

বন্ধুদের জড়ো করেছিলেন ছোটবোনের বিয়ের আয়োজনে। অন্য সব সাধারণ বাঙালি পরিবারের মতোই মেতে ছিলেন আনন্দে। কেনাকাটা, হয়ত ঘর সাজানো, অতিথি আপ্যায়নে তিনি ছিলেন সরব। ঘাড়ে ভাইয়ের দায়িত্বও কী ছিল না!
না হলে কেন ছোটবোনের বিয়ের আয়োজনের কাজ আর কেনাকাটা করতে বের হলেন বন্ধুরাসহ। 
তাদের সব উচ্ছ্বাস, কলতান পুড়ে গেল এক ভয়ংকর আগুনে। বুধবার রাতে দুই মোটরসাইকেলে চার বন্ধুসহ বেরিয়েছিলেন বিয়ের কেনাকাটাসহ আরও কিছু কাজ সারতে।
কিন্তু বোনের বিয়ে আর দেখে যাওয়া হল না তার। পুরান ঢাকার চকবাজারের আগুন পুড়িয়ে দিল নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র রোহানের সব।  
রোহানের সাথে লাশ হয়েছেন বন্ধু উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী আরাফাতও। আরাফাত কাজী আলাউদ্দিন রোড সংলগ্ন আগা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
রোহান ও আরাফাতের স্বজনরা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে এলেও তারা শনাক্ত করতে পারছিলেন না।
রোহানের চাচাত ভাই মমিন খান বলেন, 'রোহানের মরদেহ মর্গে আছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু কেউ রোহানের মরদেহ শনাক্ত করতে পারছি না'।
মর্গের সামনে আগা মাসিহ লেন থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওয়াজেদ জানান, রোহান আর আরাফাতের সঙ্গে ছিলেন তার ভাগ্নে মাইনুল ইসলাম লাবিব, রমিজ ও সোহাগ।
তিনি জানান, লাবিব, রমিজ আর সোহাগ ছিলেন একটি মোটরসাইকেলে আর রোহান ও আরাফাত ছিলেন অপরটিতে।
লাবিবের মাথার সামান্য অংশ পুড়লেও বেঁচে গেছেন জানিয়ে ওয়াজেদ বলেন, আরাফাতের মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরে আরাফাত ও রোহান দুজনই মারা গেছেন।
নিহত রোহানের  বাবা মো. হাসান খান বৃহস্পতিবার দুপুরে মর্গের সামনে হাজির হলেও কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না।
হাসান খানের সঙ্গে থাকা তার শ্বশুর ইউনুস খান জানান, মার্চে রোহানের ছোট বোনের বিয়ে। সেজন্য রোহান বন্ধুদের নিয়ে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে ছিল।
তিনি বলেন, রোহান বন্ধুদের নিয়ে ওই এলাকায় গেছিল কমিউনিটি সেন্টার, ডেকোরেশনে কথা বলতে আর কেনাকাটা করতে। তখনই ওই ঘটনা ঘটে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে এ আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করে বিমানবাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার। দুপুর নাগাদ আগুন পুরো নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটে।