কাজি এনামুল হক, সম্মান শ্রেণি পাস করে ঢাকায় এসেছিলেন চাকরির আশায়। চাচাতো ভাইয়ের রোজগারে কংক্রিটের শহর ঢাকায় তারও থাকা-খাওয়া জুটত।
অন্যের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা তাড়িয়ে বেড়াত তাকে।
নিজের দু'পায়ে দাঁড়াতে চাকরির সন্ধানে এনামুল অনেক চেষ্টাই করেছেন। ছয় মাস টানা চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু কোথাও চাকরি পাননি। বেকারত্ব নিয়ে তার যন্ত্রণার অবসান হলো ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে। আগুনে পোড়ার যন্ত্রণায় মিলিয়ে গেল তার সব আক্ষেপ। তিনিও চলে গেলেন সব আশা-আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে।
এনামুলের চাচাতো ভাই ইউসুফ কাজি এসব বলছিলেন ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে এনামুল চকবাজারের স্থানীয় এক দাঁতের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। আগুনের সূত্রপাত যেখানে হয় তার নিকটেই ছিল ওই চিকিৎসকের চেম্বার।
তিনি বলেন, আগুনের খবর শুনে আমি তার সন্ধানে নেমে পড়ি। তার নম্বরে ফোন দিলেও কেউ ধরছিল না।
স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ইউসুফ আরো বলেন, আমি সারা রাত ঢাকা মেডিকেল ও চকবাজার যাওয়া-আসা করতে থাকি। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাচ্ছিলাম না।
অবশেষে ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেলে এনামুলের পোড়া লাশ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
বুধবার রাতে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের সামনে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আশপাশের ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৯ ইউনিট সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।
এ এখন পর্যন্ত ঘটনায় ৭০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।