পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ সোহাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গতকাল আইসিইউতে গিয়ে দেখা যায়, তার সমস্ত শরীরে ব্যান্ডেজ। মুখের চামড়া উঠে গেছে। বিছানায় পড়ে আছে তার নিথর শরীর। পাশেই বসে আছেন মা বেদেনা। মায়ের চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে। আইসিইউর বাইরে অপেক্ষমাণ সোহাগের বড় ভাই রুহুল আমিন ও বাবা আবু তাহের কান্নাভেজা কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে জানান, সোহাগ ওয়াহিদ ম্যানসনের পাশেই পারফিউমের গোডাউনে কাজ করতেন। সেখানেই তিনি দগ্ধ হন। সোহাগ পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জে থাকতেন।
ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. আলাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোহাগের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ অন্যদেরও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পুড়েছে।’ বার্ন ইউনিটে গতকাল পর্যন্ত আটজন চিকিৎসাধীন ছিল। তারা হলো জাকির, রেজাউল, সালাউদ্দিন, হেলাল, সেলিম, মোজাফফর, মাহমুদ ও আনোয়ার। তাদের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানকার ইনচার্জ রওশনারা বলেন,‘এখানে ভর্তিদের ৫১ থেকে ১০ শতাংশ পুড়েছে। এখন পর্যন্ত ৮ জন চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ৯ জন চলে গেছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’
পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে চিকিৎসাধীন রিকশা চালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৬০)। তার সারা শরীরে ব্যান্ডেজ। তার মেয়ে বীথি বলেন, ‘রাতে বাবা নিজেই বাসায় ফোন করে বলে আমার শরীর পুড়ে গেছে। আর কিছু বলতে পারে নাই। এরপর আমরা আগুন লাগার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসি।’